নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ অক্টোবর, ২০২৩
সম্পন্ন হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা। মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মদ্যে দিয়ে শেষ হয় পাঁচদিনের এ উৎসব।
বিকেলে থেকে রাত পর্যন্ত নগরের চাঁদনীঘাট এলাকার সুমা নদীতে প্রতিমা বির্সজন করা হয়। বিসর্জন অনুষ্ঠানটি ব্যবস্থাপনা করে পূজা উদযাপন পরিষদ।
এর আগে সকাল থেকে মণ্ডপগুলোতে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ-উৎসব। হিন্দু নারীরা প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে দেন, নিজেরা একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। চলে মিষ্টিমুখ, ছবি তোলা আর ঢাকের তালে তালে নাচ-গান।
মঙ্গলবার বিকেল থেকে সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। চাঁদনীঘাটে বিসর্জন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও নবনির্বাচিত মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
দুপুর থেকেই পূজামণ্ডপগুলো এক এক করে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রায় শুরু হয়। শঙ্খ আর উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাকঢোলের সনাতনী বাজনার সঙ্গে দেবী-বন্দনার গানের মধ্য দিয়ে হাজারো মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। বিভিন্ন সড়ক ঘুরে চাঁদনীঘাটে তীরে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাটে প্রতিমা বিসর্জন করেন।
বির্সজন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দিনপঞ্জিকা অনুসারে এ বছর দুর্গাদেবী স্বামীর ঘর স্বর্গ ছেড়ে মর্ত্যে পিতৃগৃহে পদার্পণ করছেন ঘোটকে চড়ে। দুর্গাদেবী ভক্তদের কাঁদিয়ে ঘোটকে চড়ে মর্ত্যলোক ছেড়ে চলে গেলেন কৈলাসে।
কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
এবার সিলেট জেলার ৬১৭টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তার মধ্যে সার্বজনীন ৫৬৯টি, পারিবারিক ৪৮টি পূজোর আয়োজন হয়। মহানগরীতে ১৫১টি পূজার মধ্যে সার্বজনীন ১৩৪টি ও পারিবারিক ১৭টি। জেলায় ৪৬৬টি পূজার মধ্যে সার্বজনীন ৪৩৫টি ও পারিবারিক ৩১টি।