নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩১ অক্টোবর, ২০২৩
বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। দেশের সব মহাসড়কের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও টহল দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অবরোধের সময় নাশকতা ঠেকাতে শক্ত অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
অবরোধ কর্মসূচিতেও বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রশাসনের কর্মকর্তারা। চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীচলাচল বা পণ্য পরিবহনে কোথাও বাধা দেওয়া হলে অথবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, টহলের পাশাপাশি চলছে গোয়েন্দা নজরদারি। বিশেষ করে মহাসড়ক ও রেলপথের নিরাপত্তায় বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে।
গুজব বা মিথ্যা তথ্য, ছবি দিয়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা বা আতঙ্ক ছড়াতে না পারে সে ব্যাপারে কাজ করছে সাইবার টিম।
আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও নাশকতার কোনো তথ্য থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানানোর অনুরোধ করেছে পুলিশ সদরদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেটে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন রাস্তায় টহল দিচ্ছে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
দক্ষিণ সুরমা এলাকায় সকালে বিএনপির কিছু কর্মী রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্রের খবর, কাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর ধর্মদা গ্রামের রাস্তার সামনে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না। দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়।
সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণ সুরমার গালিমপুর এলাকায় চান্দাইমুখীর রাস্তার মুখে বাইপাস সড়কে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এসময় গাড়িটিতে ভাঙচুরও চালায় তারা। তবে বাসের যাত্রীরা গাড়ির টায়ারে লাগা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে পিকেটাররা পালিয়ে যায়।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুদ্দোহা জানান, আমরা মানুষের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রস্তুত পুলিশ। কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নগরের বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের সাজোয়া যান এপিসি। সিএনজি অটোরিকশা, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস চলাচল করতে দেখা গেছে।