মো. রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর | ১৫ জানুয়ারী, ২০১৬
নানা সমস্যায় জর্জরিত সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন নিজেই যেনো রোগী। সঙ্কট আর অবহেলায় এখানে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্ত থাকার, রোগীদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা পাচ্ছে না বিনামূল্যের ঔষধ। হাসপাতালের পুরো এলাকা যেন গণসৌচাগার ও পাবলিক গ্যারেজ।
সরজমিনে দেখা যায়, জৈন্তাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের নানা দূর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। প্রাইভেটে চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দেন বেশিরভাগ মেডিকেল অফিসাররা। যারা প্রাইভেটে চিকিৎসা নেন না তাদেরকে সিলেটের এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি কানাইঘাট গোয়াইনঘাট জৈন্তাপুর উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে ফলে কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার ৫নং আলীরগাঁও, ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন।
গত ১১জানুয়ারি সকাল ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের চেম্বারগুলোতে তালা ঝুলছে। শুধুমাত্র মেডিকেল অফিসার ডা. সুবল চন্দ্র বর্মন এর কক্ষ খোলা থাকলেও তিনি বাইরে রয়েছেন। এসময় সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগী ও সাধারন রোগীসহ অভিভাবকরা ডাক্তারের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছে।
এসময় কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, ডাক্তাররা নিয়মিত চেম্বারে আসেন না, হাসপাতালের বেডে সেই পুরানো আমলের বেড তালি জোড়া দিয়ে চলছে। রোগীরা বাসাবাড়ী হতে বিছনাপত্র নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের টয়লেটও জরাজীর্ন, ব্যবহার অনুপযোগী। রাতের বেলা হাসপাতাল এলাকায় গড়ে উঠেছে মাদকের নিরাপদ আস্থানা, রোগীরা পাচ্ছেনা সরকারি ঔষধ। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর ছাড়া হয় না।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ বলেন, লোকবল সংকটের কারনে এখানে সেবা প্রদান কিছু ব্যাহত হচ্ছে। উন্নয়নের বিষয় আমি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করছি। যেহেতু এই কমপ্লেক্সে আমি নতুন যোগদান করেছি। সব কিছু ঠিকঠাক করতে একটু সময় লাগবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদুর রহমান বলেন- জৈন্তাপুর হাসপাতল সত্যিই নিজেই রোগে ভূগছে। জনসাধারনে অভিযোগের ভিত্তিত্বে আমি কয়েক বার সরেজমিনে গিয়েও নির্দেশ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিচ্ছে না। গন শুনানির জন্য আগামি উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।
এবিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন- ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- আমি হাসপাতাল কয়েকবার পরিদর্শন করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কথা বলেছি কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন কর্ণপাত করছে না। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হউক।