বিশ্বনাথ প্রতিনিধি | ১৪ নভেম্বর, ২০২৩
বিশ্বনাথে আল-ফালাহ ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটা অপসারণ নিয়ে দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। দু’পক্ষের এক পক্ষে রয়েছেন ইট-ভাটার মালিক বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজুল হক। আর অন্য পক্ষে রয়েছেন কালিগঞ্জ বাজার সচেতন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক আলাপুরের বাসিন্দা ফজল খানসহ তার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
গত রোববার (১২ নভেম্বর) কালিগঞ্জ বাজারের পাশ্ববর্তী এ ভাটায় গত রোববার দিবাগত রাত ২টারদিকে ভাটায় আগুন দিয়ে ইট পুড়াতে চাইলে মালিক পক্ষকে বাধা প্রদান করেন নাগরিকরা। এ নিয়ে দু’পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় সোমবার (১৩ নভেম্বর) থেকে দু’পক্ষে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কান সময় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারি মাসে পৌরসভার মাসিক সভায় জনগুরুত্বপূর্ন পৌরসভা এলাকা থেকে ইটভাটা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা। এরপর বৈঠকের সিদ্ধান্ত এবং ইট প্রস্তূত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ এর ৫৯ অনুযায়ী পরিবশে দূষণ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে ইটভাটা অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গত ২২ মার্চ সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করেন পৌরসভার মেয়র মুহিবুর রহমান। ফলে ওই ইটভাটা চালানোর জন্য সিরাজুল হককে চলতি অর্থ-বছরের ব্যবসার অনুমতিপত্র (ট্রেড লাইসেন্স) দেননি মেয়র মুহিব।
এরপর ইটভাটা অপসারণ দাবিতে গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয়দের নিয়ে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কালিগঞ্জ বাজারের বাসিয়া ব্রিজের উপর মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’ সিলেট শাখা ও কালিগঞ্জ বাজার সচেতন নাগরিক ফোরাম’র নেতারা।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ নভেম্বর শনিবার উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে মেয়র মুহিবুর রহমানের কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক করা হয়। বৈঠকে সিরাজুল হক ও ফজল খান পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকের নিস্পত্তি হয়। এর একদিন পর সোমবার দিবাগত রাতে ইট পুড়ানো শুরু করা হলে তাতে বাধা দেন অপরপক্ষ।
সচেতন নাগরিক ফোরামের আহবায়ক ফজল খানসহ এলাকাবাসীর দাবি, ইটভাটা আইন ২০১৩ অনুযায়ী পৌরসভার ভিতরে কোন ইটভাটা না থাকার কথা থাকলেও নিয়ম না মেনে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন কলেজের প্রাক্তণ অধ্যক্ষ সিরাজুল হক।
আর ইটভাটার মালিক সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজুল হক বলেন, পরিবেশ, উর্ধতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনুমতি থাকলেও চাঁদা না দেওয়ায় বেআইনী ভাবে ফজল খান, আনোয়ার মিয়া এবং কাউন্সিলর রফিক হাসান, ফজর আলী, মুহিবুর রহমান বাচ্চু ও জহুর আলী মিলে জোরপূর্বক ইট পুড়ানো বন্ধ করে দিয়েছেন।
তবে, প্যানেল মেয়র ও কাউন্সিলর রফিক হাসান, কাউন্সিলর ফজর আলী, কাউন্সিলর মুহিবুর রহমান বাচ্চু বলেছেন, উত্তেজনার তারা (কাউন্সলরা) ঘটনাস্থলে গিয়ে মধ্যস্থতা করেছেন। এখানে চাঁদা দাবির বিষয়টি ইটভাটা মালিকের মনগড়া একটি কথা ছাড়া আর কিছুই নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমা প্রসাদ চক্রবর্তি ঘটনার সত্যতা জানিয়ে বলেন, সোমবার রাতে ভাটায় ইট পুড়াতে আগুন দেওয়া নিয়ে দু’পক্ষে উত্তেজনা দেখা দিলে একদল পুলিশ নিয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। তবে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং সেখানে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।