বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ২১ নভেম্বর, ২০২৩
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। পুলিশ নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে গিয়ে তল্লাশির নামে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।
তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বিনা কারনে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হচ্ছে না। এছাড়া, হরতাল অবরোধের নামে নাশকতা ঠেকাতে তারা অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) বিয়ানীবাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে থানা, পৌরসভাসহ ১০ ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মীরা গ্রেফতারের ভয়ে এদিক-ওদিক ছুটছেন লুকিয়ে লুকিয়ে।
কাউন্সিলর মিসবাহ উদ্দিনসহ বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্য কোন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক কোন হানাহানি বা সহিংসতা নেই। তবু্ও যেন গায়েবী ওহী পেয়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে খুঁজছে।
অপর দিকে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থানায় মামলা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির অন্তত ১০ জন নেতা অভিযোগ করেন, বিনা কারনে পুলিশ তাদের হয়রানি করে বাসা-বাড়িতে। এতে তাদের বয়োবৃদ্ধ মা-বাবাসহ পরিবারের সবাই হাঁসফাঁস হয়ে ঝুঁকিতে ভুগছেন। বাসা-বাড়ি তল্লাশির খবর জেনে পুলিশের গ্রেপ্তারের ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন জেলা এবং উপজেলার প্রথম সারির নেতাকর্মীসহ বিয়ানীবাজার পৌরসভা এবং ১০ ইউনিয়নের বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী।
এ প্রসঙ্গে বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিয়ানীবাজারে বিএনপি অত্যন্ত সুসংগঠিত রয়েছে। সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের যোগসাজসে পুলিশ বিনা কারনে বিএনপির নেতাকর্মীদের দৌড়ের উপরে রাখছে। তবে এখন পর্যন্ত মামলার নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ দেবদুলাল ধর বলেন, ‘ গাড়ি ভাংচুরের ঘটনার অভিযোগে অনেক আগের একটি মামলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিনা কারনে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।