তাহিরপুর প্রতিনিধি | ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৩
১৯৭১সালের ৪ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা পাকহানাদার মুক্ত হয়। ওড়ানো হয় লাল সবুজের বিজয় নিশান। এই দিনে বর্বর পাক-হানাদারবাহিনী ও তাদের দোষরা পালিয়ে যায়।
জয়বাংলা শ্লোগানে মুখরিত হয় উপজেলায়। শত্রু মুক্ত ঘোষণা করেই মুক্তির উল্লাসে মেতে উঠেন মুক্তিযোদ্ধা জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষ দলে দলে নেমে আসেন রাস্তায়।
১৯৭১সালে নয় মাস প্রতিরোধ গড়ে তুলেন স্বাধীনতাকামী বাংলার দামাল ছেলেরা জীবন বাজি রেখে বর্বর পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদাররা ভোরে তাহিরপুর উপজেলা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।
হানাদার মুক্ত দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ,উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভাসহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমা।
পাকহানাদার বাহিনীর আতংক উপজেলার বীরনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বাঘা জানান,৫নম্বর সেক্টরের ৪নম্বর সাব সেক্টরের বড়ছড়া,টেকেরঘাটের অধীনে ছিল তৎকালীন সময়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা। এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাত জেগে যুদ্ধ করে হানাদার বাহিনীদেরকে পরাজিত করেন। সর্বশেষে উপজেলা সদরের ভাটি তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন কাচারিতে অবস্থানরত পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তারা নানা পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোর সাড়ে ৪টার মেজর মুসলেদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে পাক হানাদারদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পাক হায়েনারা নিজেদের জীবন বিপন্ন ভেবে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আনন্দে সবার মুখে উচ্চারিত হয়‘জয় বাংলা,বাংলার জয়’ প্রতিধ্বনি। শুরু হয় আনন্দ মিছিল। মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে উঠে সমগ্র উপজেলা। এ যেন এক অন্য রখম অনুভূতি যা বলে প্রকাশ করা যাবে না বলে জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও উপজেলা আ,লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান খেলু মিয়া বলেন,প্রতি বছরের মত এবারও হানাদার মুক্ত দিবসটি পালনের জন্য উৎসব মুখর পরিবেশে মধ্য দিয়ে স্মরণীয় করে পালনের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৪ডিসেম্বর আমাদের গৌরবের ও মর্যাদার তা ভুলার মত নয়।