নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ ডিসেম্বর, ২০২৩
বিএনপি পালিয়ে গেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতি মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি এখন কোথায়? কোথায় আছে?- পালিয়ে গেছে। তারা বলেছিলো, ২৭ অক্টোবরের পর শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবে। এখন তারাই পালিয়ে গেছে। বিএনপিকে জনগন লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। বিএনপি খেলায় নাই। খেলায় আছে ১৮৯৬ জন। ৭ তারিখ তারা খেলবে।
বুধবার বিকেলে সিলেট নগরের আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিরা। এই জনসভার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করলেন তিনি।
এতে কাদের আরও বলেন, বিএনপি ভুয়া। তাদের ধর্মঘট, হরতাল, রাজনীতি সব ভুয়া। তাদের বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখতে হবে। বিএনপি নেতারা মানুষ নয়, মানুষের নামে জানোয়ার। এরা থাকলে গনতন্ত্র থাকবে না, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাকবে না, শান্তি থাকবে না। এদের বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে হবে।
জনসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে সিলেটে শহর রক্ষা বাঁধ হবে। সিলেটে রেলওয়ের উন্নয়ন হবে। ইতোমধ্যে এব্যাপারে প্রকল্প উন্নয়ন গেছে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেছেন। এ কারনে দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। এজন্য শেখ হাসিনা সরকার বারবার দরকার।
মন্ত্রী বলেন, আমার বড় ভাই আবুল মাল আব্দুল মুহিত যেভাবে সততা ও নিষ্টার সাথে কাজ করে গেছেন, আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনগনের কল্যানে কাজ করতে চাই। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে চাই।
বেলা দুইটায় এই জনসভা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দুপুরের আগেই কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় জনসভাস্থল। বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন নেতাকর্মীরা। নানান সাজে সজ্জিত হয়ে আসেন তারা। সকাল থেকেই নগরের সব পথ এসে মিশে মাদ্রাসা মাঠে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শুরু হয় সমাবেশ। আর প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে আসেন ৩ টা ৯ মিনিটে।
এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে সকাল সাড়ে ১১ টায় তসিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তাকে অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
এরপর প্রটোকলবিহীন গাড়িতে করে হয়রত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার ও হয়রত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তার ছোট বোন শেখ রেহানাসহ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবারের মতো এবারও সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পর বুধবার আবার সিলেটের কোনো জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্বাচনী সফরের সম্পূর্ণ খরচ বহন করে তার দল।