Sylhet Today 24 PRINT

তীব্র শীতে শান্তিগঞ্জে স্থবির জনজীবন

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ |  ১২ জানুয়ারী, ২০২৪

প্রতীকী ছবি

ভোরের আলো ফোটার পর থেকে যত সময় গড়ায় কুয়াশার শুভ্র শীতল চাদরে ততই ঢেকে যায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার পথঘাট। হাটবাজার ও রাস্তায় স্বাভাবিক দিনের তুলনায় মানুষ এবং যানবাহনের পরিমাণ একেবারেই কম দেখা যায়। শৈত্য প্রবাহে মানুষের যাপিত জীবন এতোটাই স্থবির হয়ে পড়েছে যে, ইচ্ছা বা প্রয়োজন থাকা স্বত্বেও ঘরের বাইরে বের হতে পারেন না অনেকে। এতে দিনমজুর, কৃষক, মৎস্যজীবী, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালক শ্রেণির পেশাজীবীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। অন্য সময়ের তুলনায় এসময়ে তাদের আয়-উপার্জন কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গত মঙ্গলবার থেকে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় খুব একটা সূর্যের দেখা মিলেনি। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা ছিলো সব কিছু। বেলা বাড়ার সাথে কুয়াশা কিছুটা কমলেও শীতের তীব্রতা কমেনি। সাথে হিমশীতল বাতাস ঠান্ডার প্রকোপ আরও বাড়িয়ে দেয়। সোম ও মঙ্গলবার বিকালের দিকে সূর্যের দেখা মিললেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সমস্ত দিনের মধ্যে একবারও সূর্যের দেখা মিলেনি। এমন পরিস্থিতি স্থবির হয়ে পড়েছে এ উপজেলার জনজীবন।

সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শীতের তীব্রতার জন্য এমনিতেই যাত্রী কম। তার উপর খোলামেলা গাড়ি হওয়ার কারণে যাত্রীরা এসব যানবাহনে উঠতে চান না। সিএনজি ও রিকশাতে বাতাস বেশি লাগার কারণে বিকল্প যানবাহন পছন্দ করেন অনেকে। এসময় বাসে চড়েই তারা বেশি যাতায়াত করে থাকেন। তাই তাদের উপার্জনও কমেছে। এসময় সময় জমিতে নেমে কাজ করলে শরীর জমে যাওয়ার অবস্থা হয় বলে জানিয়েছেন অনেক কৃষক। পানি এতো ঠান্ডা থাকে যে, পানিতে নেমে মাছ ধরার মতো অবস্থা থাকেনা বলে জানিয়েছেন একাধিক জেলে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর গ্রামের পশ্চিম দিকে ছোট্ট একটি হাওর নাওরি। এ হাওরে বোরো ধান চাষ করেন গাজীনগর গ্রামের কৃষক বিরাম উদ্দিন ও লোকমান হোসেন। তারা বলেন, বোরো জমিতে ধান চাষ প্রায় শেষের দিকে। তবু যে কাজ বাকী আছে ঠান্ডার কারণে তা করতে পারছি নাম প্রচণ্ড ঠান্ডা পানি। শীতও প্রচুর। হাত-পা জমে যাওয়ার মতো অবস্থা। কাজ করতে মন চায় না।

জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, পানি প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে। সকালে কুয়াশার জন্য পথ দেখা যায়। পানিতে নামা যায় না। মাছও ধরা পড়ে না।

সিএনজি চালক ফয়সল আহমদ ও রিকশা চালক আলাউদ্দিন বলেন, ঠান্ডার কারণে মানুষ রিকশায় উঠতে চান না। স্বাভাবিক দিনে ৭/৮শ’ টাকা রোজগার হলেও এ ঠান্ডার দিনে সাড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকার বেশি আয় হয় না। আমরা বিপাকে আছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.