নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
এক যুগ আগের চুক্তি অনুযায়ী সিলেটের সিএনজি স্টেশনগুলো গ্যাস বরাদ্দ পাচ্ছে। এর মধ্যে যানবাহন প্রায় দ্বিগুণ হলেও বরাদ্দ হেরফের হয়নি। ফলে মাস ফুরানোর আগেই গ্যাস দেওয়ার সীমা (বরাদ্দ) শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে কেউ দুই থেকে চার দিন, কেউবা এক সপ্তাহ পর্যন্ত বন্ধ রাখছেন সিএনজি স্টেশন।
অনেক ফিলিংস্টেশন বন্ধ থাকায় খোলা রাখা পাম্পে সৃষ্টি হয় গাড়ির জট। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য গাড়ি নিয়ে ছোটাছুটি করেন। গ্যাস সংগ্রহ করতে গিয়েই অর্ধেক দিন পার হয়ে যাচ্ছে তাদের। সিলেটের সিএনজি ফিলিংস্টেশনগুলোতে এখন এমন দুরবস্থা।
শীত মৌসুমে সিলেটের প্রবাসীদের দেশে ফেরা ও পর্যটকরা এ অঞ্চলে ঘুরতে আসার কারণে গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে গ্যাসের চাহিদা। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি ফিলিংস্টেশনগুলো স্বাভাবিক রাখা ও চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফেরানোর দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
জ্বালানি ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০৭ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সিলেটে সিএনজি ফিলিংস্টেশনগুলো গড়ে ওঠে। ওই সময় জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের সঙ্গে প্রতিটি পাম্পের বরাদ্দের বিষয়ে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী এক লাখ থেকে তিন লাখ কিউবিক ফিট গ্যাস পায় ফিলিংস্টেশনগুলো। শুরুর দিকে সমস্যা না হলেও কয়েক বছর ধরে চাহিদা বাড়ছে। এখন সিলেট জেলায় ২৯টি এবং নগরীতে ২১টি ফিলিংস্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনের একটি অংশে বরাদ্দের সীমা শেষ হওয়ায় প্রতিদিনই বন্ধ থাকছে। নিয়ম না মেনে প্রতিদিন ইচ্ছামতো গ্যাস বিক্রি করায় মাস শেষের আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, নগরীর পাঠানটুলার নর্থ-ইস্ট ফিলিংস্টেশন মাসে বরাদ্দ পাচ্ছে ১ লাখ ২৩ হাজার কিউবিক ফিট। তাদের চাহিদা দেড় লাখের বেশি। আম্বরখানার জালালাবাদ পেট্রোল পাম্পে দেড় লাখের বিপরীতে দুই লাখ ও সোবহানীঘাট এলাকার বেঙ্গল গ্যাসোলিনের আড়াই লাখ কিউবিক ফিট বরাদ্দের বিপরীতে চাহিদা সাড়ে তিন লাখ কিউবিক ফিট। প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকার পাম্পের সীমা শেষ হওয়ার কারণে চাপ পড়ে পাশের সিএনজি স্টেশনে।
ছাতকের আবুল কালাম ফিলিংস্টেশন, নগরীর সফাত উল্লাহ ফিলিংস্টেশন, নর্থ-ইস্ট সিএনজি ফিলিংস্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, শত শত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।
চালক নয়, যাত্রীরাও দুর্ভোগে পড়ছেন। এমনকি স্টেশনের আশপাশের ব্যবসায়ীরা যানবাহনের লাইনের কারণে লোকসানের মুখে। শহরতলীর চাতল এলাকার অটোরিকশাচালক শায়েখুল ইসলাম জানান, এখন গ্যাস নেওয়াটা একটা যুদ্ধ। ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগে গ্যাস নিতে। আম্বরখানার ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান জানান, প্রায় দিনই গাড়ির লাইন থাকে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য জালালাবাদ গ্যাসের কাছে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৈঠকও করা হয়েছে। জাতীয় সংকটের দোহাই দিয়ে তারা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।
জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) আতিকুর রহমান জানান, গ্যাস সংকট নেই। ব্যবসায়ীরা নিয়ম না মেনে সময়ের আগেই গ্যাস বিক্রি করে দেন। ফলে মাস শেষে তাদের পাম্প বন্ধ রাখতে হয়।