নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
সিলেটে বেড়েই চলছে সবজি ছিনতাই। বিভিন্ন উপজেলা থেকে জেলা শহর সিলেটে সবজি আনার সময় প্রতিদিনই ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন চাষিরা। এই ছিনতাই থেকে রক্ষা পেতে বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সবজি চাষি, কাঁচামাল ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী নেতা ও সবজি পরিবহনকারী শ্রমিকরা সিলেটের জেলা প্রশাসক অফিসে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘শাহপরান তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আইসি শাহিন কবির। তার সামনেই সামনেই মাল (সবজির গাড়ি) নিয়ে যায়। সে গিয়ে আবার মাল উদ্ধার করে। তখন দেখা যায় তিন বস্তা চার বস্তা কম। এই বস্তাগুলো ফেরত আনতে আবার ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া লাগে। একইভাবে শাহপরান থানার এস আই মিজানের যখন ডিউটি থাকে সে ছিনতাইকারীদের মদদ দেয়।’
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে পুলিশ সদস্য শাহিন কবির ও মিজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মহানগরের ভিতরে এধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করছেন সবজি চাষি, আড়ৎদার ও ব্যবসায়ীরা।
সবজি ব্যবসায়ী আশিক মিয়া বলেন, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন কাঁচামাল নিয়ে আসা হয় জৈন্তা ,কানাইঘাট জাফলং এলাকা থেকে। শাহপরান এলাকা থেকে শিবগঞ্জ, মিরাবাজার, রায়নগর এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এসব সবজি নিয়ে যায়। গত শুক্রবার ১ লক্ষ টাকার মাল নিয়ে যায় রাত ১২টার সময়। প্রতিদিন এই ধরনের ঘটনা ঘটে। আজ ফুলকপি, কাল টমেটো, এরপর সিম এভাবে প্রতিদিন সবজি লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ কিছু করছে না।
কালীঘাটের ব্যবসায়ী অঞ্জন সাহা বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে চালিবন্দর ভৈরব মন্দিরের কাছ থেকে ২ ঠেলা পেঁয়াজে কই নিয়ে গেছে তার কোনো খোঁজ পাইনি। সাথে ৯ হাজার টাকাও নিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভ পরবর্তী জেলা প্রশাসককে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান অভিযোগ গ্রহণ করলেও এ ব্যাপারে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। দীর্ঘসময় তার দপ্তরে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক অপেক্ষা করলেও তিনি এ ব্যাপারে কথা বলবেন না বলে জানিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে দ্য সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাহমিন আহমদ বলেন, রাতে গাড়ি থেকে সবজি ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে। গাড়ির ড্রাইভার থেকে শুরু করে সবজি চাষিদেরকেও মারধর করছে। এভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করতে থাকলে এর প্রভাব আগামী রমজান মাসেও পড়বে। কারণ এভাবে ছিনতাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে শহরে কেউ পণ্য নিয়ে আসবে না। আগামী রমজান মাসে যদি ভোক্তাদেরকে ঠিকমত পণ্য সরবরাহ করতে না পারি তাহলে সবাই ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে হবে। আমরা এ থেকে পরিত্রাণ পেতে আজ জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দিয়েছি। আগামী সাত দিনের ভিতরে এই ছিনতাই কার্যক্রম বন্ধ না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।
পুলিশের সামনে সবজি ছিনতাইয়ের ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার এডিসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা সঠিক তথ্য না। এরকম অভিযোগ আগে আমাদের কাছে কেউ করেনি। কোনো অপরাধের প্রেক্ষিতে যদি কোনো কিছু আটক করে পুলিশ তাহলে সেটা ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই। যে পুলিশ সদস্যদের নাম আসছে তাদের নামেও এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি এধরনের কেনো ঘটনা ঘটে থাকে আমরা খোঁজ খবর নেব। যেহেতু ভুক্তভোগীরা সুনির্দিষ্ট করে বলছেন। আমাদেরকেও এটা যাচাই বাচাই করে দেখতে হবে। কোনো বিচ্যুতি সহ্য করা হবে না। এটা একটা অন্যায় কাজ। যেহেতু আমরা অবগত হয়েছি অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ঘটনা আর ঘটুক আমরা চাই না।
তিনি বলেন, আজকে সবজি ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। এই বিষয়টা আজকে জানতে পেরেছি। কমিশনার স্যার ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন এ বিষয়ে পুলিশের তরফ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।