Sylhet Today 24 PRINT

নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নাগরিকদের ক্ষোভ

সিলেট পরিবেশ দিবসে গোলটেবিল

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৫ জুন, ২০২৪

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষ্যে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার-এর উদ্যোগে সিলেটে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় নাকাল একাধিক নাগরিক অর্থহীন উন্নয়নে অর্থ বিনাশের অভিযোগ উত্থাপন করেন।

নাগরিকেরা বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতা দূর করার নামে বহু আশার বাণী শোনানো হলেও সব অসার প্রমাণিত হয়েছে। প্রাকৃতিক ছড়া ও খালকে ড্রেনে পরিনত করার খেসারত নাগরিকদের ভোগ করতে হচ্ছে। বক্স কাল্ভার্ট নির্মাণে বিপদ তৈরী হচ্ছে। নগরীর চারপাশের জলাভূমি ভরাট করে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করা হচ্ছে। নাগরিকেরা সিলেট জেলার বন্যা ও মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বিজ্ঞানভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান।

 নাগরিকেরা সুরমা নদী খননের নামে বরাদ্ধকৃত ৫০ কোটি টাকা ব্যায়ের শ্বেতপত্র প্রকাশের কথাও বলেন।

"সিলেটের বন্যা: নাগরিক অভিজ্ঞতা ও করণীয়"- শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-এর কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল। ৫ জুন বুধবার পরিবেশ দিবসে স্থানীয় একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে গোলটেবিল বৈঠকের সূচনা বক্তব্য রাখেন পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম।

আলোচক হিসেবে অংশগ্রহন করেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, প্রবীন রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সফিক, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট এর সভাপতি মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মো আব্দুল জব্বার জলিল, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. জফির সেতু, ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন ও ডঃ তাহমিনা ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠক এনামুল মুনীর, নাগরিক মৈত্রী সিলেট-এর সভাপতি এডভোকেট সমর বিজয় সী শেখর, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট-এর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল হাই আল হাদী ও নির্বাহি সদস্য মাহমুদুর রহমান ওয়েছ, ইউকে বাংলা এডুকেশনাল ট্রাষ্ট (আকবেট)-এর সিইও মোহাম্মদ আছাদুজ্জামান সায়েম, সমাজসেবী রোটারিয়ান জাকির আহমেদ চৌধুরী, সমাজকর্মী এডভোকেট অরুপ শ্যাম বাপ্পী ও রেজাউল কিবরিয়া, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন সিলেট জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান, প্রকাশক রাজিব চৌধুরী, মেঠোসুর সম্পাদক বিমান তালুকদার, পরিবেশকর্মী রোমেনা বেগম রোজী ও আমীন তাহমীদ, কবি-লেখক ইছমত হানিফা, শিশু-কিশোর বিষয়ক সংগঠন উষা-এর পরিচালক নিঘাত সাদিয়া প্রমুখ।

সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে আমলারা দোষ হয় রাজনীতিবিদদের। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারনে সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বলে তিনি অভিমত ব্যাক্ত করেন। তিনি একাধিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, সিলেট এখন অভিভাবক শূণ্য।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ-এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বড় প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি সিলেটের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কথা উল্ল্যেখ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শরীফ জামিল বলেন, সিলেটে কখনও বন্যা হবার কথা না। যা হচ্ছে কিংবা হবে, সব জলাবদ্ধতা। অপরিকল্পিত নগরায়ন গ্রাস করেছে পুকুর, খাল, নদী ও জলাশয়। তার সাথে যোগ হয়েছে অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ণ ও হাওর ধ্বংসের অভিঘাত। সিলেটে বসবাস করতে হলে এর নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সফিক বলেন, দায়িত্বপালন কালে ভুল্ভ্রান্তি হয়। ৫০ বছর পূর্বে সিলেট পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান-এর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছিলাম। সে সময় পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা না থাকায় কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেই সিদ্ধামতের জন্য নাগরিকদের কাছে আজ দুঃখ প্রকাশ করছি।

ডাঃ মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার বলেন, মেঘালয়ে নির্বিচারে পাথর ও খনিজ উত্তোলনের কারনে ঢলের সাথে প্রচুর বালি আসছে। যা আমাদের নদীগুলোর তলদেশ ভরাট করছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর জফির সেতু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় যতটা না প্রাকৃতিক তারচেয়ে বেশি মানবসৃষ্ট এবং এটা যতটা না স্থানীয় সমস্যা ততটাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যা।

সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জৈন্তা-গোয়াইনঘাটকে বন্যার হাত থেকে রক্ষায় পিয়াইন নদী খননের কথা বলেন।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফারুক উদ্দিন বলেন, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অধ্যয়ন সম্পর্কিত বিভাগসমূহের গ্রাজুয়েটদের সমন্বয়ে নাগরিক কমিটি গঠন করে টেকসই সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত ।

প্রফেসর তাহমিনা ইসলাম বিগত ২০২২ এর বন্যার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এই বন্যার অন্যতম কারণ অপরিকল্পিত উন্নয়েন। প্রকল্পের নামে যা বরাদ্দ হয় তার বড় অংশ লুট হয়, তিনি বন্যা পরবর্তী পুনরবাসন কাজে সঠিক ভাবে সমন্বয়, এ ক্ষেত্রে বন্যার সময় বিশেষ সেল গঠনের কথা বলেন।

আকবেটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সায়েম বলেন " সিলেটের পরিবেশ রক্ষার মতো বিশাল একটি বিষয় নিয়ে কাজ করার জন্য শুধু আবেগ নিয়ে সেচ্ছাসেবী কাজ যথেষ্ট নয়। সংস্লিশট ব্যাক্তিদের নিয়ে পরিবেষ নিয়ে কাজগূলোর একটা প্রাতিষ্ঠানিক  রুপ দিতে হবে যেটা সিভিল সোসাইটি ওয়াচডগ, প্রেসারগ্রুপ হিসাবে কাজ করবে.। এবং এই সংঘটন এর জন্য যথেষ্ট তহবিল সংগ্রহ করতে হবে, জনবল নিয়োগ দিতে হবে"।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.