Sylhet Today 24 PRINT

নেমেছে পানি, বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

শোয়েব উদ্দিন, জৈন্তাপুর |  ০৬ জুন, ২০২৪

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমছে। পানি সরে যাওয়ার পর বন্যার তাণ্ডবের চিহ্ন একে একে বেরিয়ে আসছে। তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটের ক্ষত বেরিয়ে পড়েছে।

বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও। উপজেলার হেমু মাদ্রাসা (তিনপাড়া) রাস্তাসহ আরও অনেক সড়ক দেখলে মনে হয় সুনামির ছাপ পড়েছে। পানিতে নিমজ্জিত বাসাবাড়ির অনেক আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।

এদিকে পানি কমতে দেখে অনেকের চোখে-মুখে বাড়ি ফেরার আকুতি থাকলেও ফিরতে পারছে না। ঘরের মেঝেতে পা ফেলতে গেলে হাঁটু পর্যন্ত গেড়ে যায়। এ অবস্থায় নিজের মাথা গোজাই যেখানে দায়, সেখানে গবাদিপশু গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি কোথায় রাখবে? এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন জৈন্তাপুরের মানুষ।

বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ির ও রাস্তাঘাটের সঙ্গে মাছ চাষিদের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে গেছে নিয়ে গেছে গো-খাদ্যও। এতে করে গো-খাদ্যেরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন মৌসুমি খামারিরা। আর পানি ও ঘরবাড়ির দিকে তাকালে ক্ষতচিহ্ন বলে দিচ্ছে কতটা ভয়াবহ ছিল পাহাড়ি ঢল নেমে আসা বন্যার দিনগুলো।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের মানুষের সহায়-সম্পদ বানের পানিতে সবই ভেসে গেছে। বাড়িতে বাড়িতে পালন করা হাঁস-মুরগির খাঁচাগুলো পড়ে আছে নদীর তীরে। এই উপজেলায় ব্যাপকভাবে মাছ চাষ করা হয়। মাছের ছোট-বড় প্রতিটি খামার ভেসে গেছে। মাছ চাষিদের এখন মাথায় হাত। জৈন্তাপুর উপজেলার সারী, করিচ ও কাপনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

বন্যা দুর্গতরা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা করা হলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। নয়তো দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এদিকে উপজেলার নিজপাট, জৈন্তাপুর, চারিকাটা, দরবস্ত ও ফতেপুর ইউনিয়নের একাধিক বাসিন্দা জানান- কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক রাতের মধ্যে ঘরে বন্যার পানি ঢুকে যায়। এভাবে ঘরে পানি ঢুকবে তা ভাবতেও পারেননি ভুক্তভোগীরা। বস্তা বন্দি করে রাখা বৈশাখের ধান পানি নষ্ট করে ফেলেছে।

দরবস্ত ইউনিয়নের পশ্চিম দীঘিরপার দিনমজুর ফয়সাল আহমদের ঘর ভেঙে পড়েছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, তিনদিন ঘরের ভেতরে পানি ছিল। পানির মধ্যেই পরিবার নিয়েছিলাম। এই কষ্ট সহ্য করেছি- ঘরটা রক্ষা করার জন্য। কিন্তু পানি নামার পর ঘরের বেড়াও ভেঙে পড়েছে।

ইউপি সদস্য হেমু মাঝপাড়া গ্রামের ফারুক আহমদ বলেন, ৬০ বিঘা জমির উপর দীঘি লিজ নিয়ে আমার মাছের খামার। খামারে এবার প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মাছের পোনা ছেড়েছিলাম। বন্যার পানি সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

জৈন্তাপুর ও দরবস্ত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নতুন গড়ে তোলা পাকা, সেমিপাকা ঘরবাড়ির দেয়াল ও মেঝেতেও বড় বড় ফাটল ধরেছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর একটি জৈন্তাপুর। রোববার থেকে পানি কমতে শুরু করে। ইতোমধ্যে জৈন্তাপুরের তিনটি নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমায় রয়েছে। তবে পানি কমার সাথে সাথে স্পষ্ট হচ্ছে বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র।

এদিকে ১৬ বছর থেকে সংস্কার কাজ না হওয়া হেমু মাদ্রাসা সড়কটি এবারের বন্যায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে। এখনো পানিতে তলিয়ে আছে জৈন্তাপুর উপজেলার এই সড়কটি। বন্যায় একেবারে চৌচির করে দিয়েছে পুরো সড়ক। অনেক জায়গায় সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তেরও সৃষ্টি হয়েছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে ধারণা পাওয়া যাবে। তবে যেসব সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখন সংস্কার না করার জন্য বলা হয়েছে। প্রকৃতি রৌদ্রোজ্জল হলে ব্যবস্থা নিতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে বলে দেয়া হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.