Sylhet Today 24 PRINT

কুশিয়ারায় উল্টোচিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৪ জুন, ২০২৪

সিলেটের প্রায় সব উপজেলায় নদ-নদীর পানি কমতে থাকলেও উল্টোচিত্র কুশিয়ারা নদীর অববাহিকার এলাকাগুলোর। বিশেষত ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার। সিলেটজুড়ে যখন মানুষের ঘরবাড়ি থেকে পানি নামছে তখন এ দু উপজেলার মানুষের ঘরবাড়িতে পানি। পানি বাড়ছে কুশিয়ারা নদীর।

সিলেটের অন্যান্য নদীর পনি দ্রুত কমতে থাকলেও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারার পানি কমছে খুব ধীরে। বৃষ্টি ও ভারতের উজানের ঢল না থাকলেও ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে এই উপজেলার মানুষ।  

ফেঞ্চুগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারার পানির উল্টোচিত্রের কারণ হিসেবে আরও দুটি নদীর পানিপ্রবাহের চাপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধীরগতিতে পানি কমার কারণ বিশ্লেষণ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস  বলেন, জুড়ি নদী ও মনু নদী কুশিয়ারায় এসে মিলেছে। এছাড়া সব হাওর, নদীসহ নিচু এলাকা ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়ে গেছে। তাই পানি ধারণের জায়গা নেই। এজন্যই কুশিয়ারা নদীর পানি ধীর গতিতে কমছে। তবে যেহেতু সিলেটে বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং দুদিন যাবত রোদ ওঠছে তাই একটু সময় দিতে হবে এই নদীর পানি কমার জন্য। বর্ষাকাল চলমান তাই বৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক। আমাদের সিলেট এবং ভারতে বৃষ্টিপাত শুরু হলে পানি আবারও বাড়বে।

এদিকে এই পানিতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বন্যাক্রান্ত মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ করতে বেগ পতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, ও গৃহপালিত পশু নিয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন তারা।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদীর পাড়ে পূর্ব পিটাইটিকর নয়াগ্রামের বাসিন্দা মো. লুকুস মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগের দিন পানি ওঠে আমাদের বাড়িতে। এখনও পানিবন্দি আছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি। চেয়ারম্যান, মেম্বার, এমপি অনেক হর্তাকর্তা আছেন কিন্তু আমাদের কেউ একটু সাহায্য করেনি। আমার আমাদের বাচ্চাকাচ্চা, গরু বাচুর নিয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে আছি। পানি যেদিন ঢুকেছে সেদিন ঘরের অর্ধেক মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এখন দুয়েকটি কাঁথা বালিশ আছে এগুলোতেই পরিবার নিয়ে কোনোভাবে বসবাস করছি।’

একই এলাকার বাসিন্দা মো. বাছন মিয়া বলেন, ‘ঈদের আগের দিন পানি ওঠে বাড়িতে। রান্নার চুলা পানির নিচে। তাই ঈদের দিনও কিছু রান্না করে খেতে পারিনি আমরা। নৌকা দিয়ে উচু জায়গায় গিয়ে মাঝে মাঝে কিছু খাবার রান্না করে আনি। আমাদেরকে এখন পর্যন্ত কেউ একটু শুকনো খাবারও দেয়নি। ঈদের দিন থেকে খেয়ে না খেয়ে এখন পর্যন্ত দিন যাপন করছি আমরা।’

উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ৫টি ইউনিয়নের ২৫টির বেশি গ্রামে বন্যাপ্লাবিত মানুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ১২০ জন। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ ইউনিয়নের আশ্রয় কেন্দ্রে এক হাজার ১৩৫ জন বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা প্রিয়াংকা বলেন, ‘অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জের পানি অনেক ধীরগতিতে নামছে। আমরা আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। যখন যেখানে জেনেছি মানুষজন পানিবন্দি আছেন সেখানে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। তবে যেহেতু এলাকা বড় এবং বন্যাকালীন সময় তাই কিছু পানিবন্দি মানুষের খবর আমরা নাও পেতে পারি। কেউ যদি আমাদের নির্দিষ্ট করে বলেন, কোথায় কতজন পানিবন্দি আছেন আমরা ত্রাণ পৌঁছে দেব।’

পূর্ব পিটাইটিকর নয়াগ্রামের বাসিন্দারা এখনো কোনা ত্রান পাননি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এটা সদর ইউনিয়নে পড়েছে। এই এলাকার দায়িত্ব চেয়ারম্যান সাহেব নিজে নিয়েছেন। তিনি যদি কাউকে সাহায্য না করেন তাহলে আমাকে নিদিষ্ট করে কতজন মানুষ ত্রাণ পাননি জানালে আমি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেব।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.