Sylhet Today 24 PRINT

মধ্যনগরে নির্বাচনোত্তর সংঘর্ষ: নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৬ জুন, ২০২৪

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দুইদিন পর পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পরিবারের উপর হামলার ঘটনার ১৯ দিন পর উপজেলার নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়াসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিসবাহ উদ্দিন আহমদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন হামলায় আহত প্রার্থী সাইদুর রহমানের ছেলে অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান ঝিনুক।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মধ্যনগর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজমল হোসাইন

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন আজিম মাহমুদ, সোহেল ভূইয়া, আফসার উদ্দিন, মোবারক ভূইয়া (স্মরণ), বাসেত ভূইয়া, শরীফ ভূইয়া, হুমায়ুন, শরীফ মিয়া, আমিনুর, শমশের আলী, আনোয়ার, আব্দুস সালাম, কাউসার, আব্দুর রহমান, বাবুল, কবীর, রুবেল, আজিজুল, আলমগীর কবীর এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জন।

মামলায় বাদী পক্ষে শুনানী করেন ও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী তৈয়বুর রহমান বাবুল ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল হক।

বাদী পক্ষে অন্যান্য আইনজীবীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আরফান আলী, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, অ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট আব্দুল আজাদ নোমান, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল হাসান শাহীন, অ্যাডভোকেট পঙ্কজ তালুকদার, অ্যাডভোকেট ছায়াদুর রহমান তালুকদার,  অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হুসাইন, অ্যাডভোকেট এইচ এম ওয়াসিম, অ্যাডভোকেট একরাম হোসেন, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, অ্যাডভোকেট সালেহ আহমেদ প্রমুখ।

মামলায় অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান ঝিনুক অভিযোগ করেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী আসামীরা নির্বাচনকালীন সময়ে নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন যা তিনি নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ করায় তারা ক্ষিপ্ত হন এবং নির্বাচনের পরে প্রতিশোধ নেয়া হবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

অভিযোগে উল্লেখ, ৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দুইদিন পর ৭ জুন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সাইদুর রহমানের বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাইদুর রহমান এবং তার পরিবার ও স্বজন্দের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালান নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, তার ভাতিজা আজিম মাহমুদসহ অন্যান্য আসামীরা।
মামলায় উল্লেখ, আসামীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইদুর রহমানের মাথায় দুটি ও হাতে একটি, বাদী আরিফুর রহমানের মাথায়ও দুটি ও হাতে একটি কোপ দিয়ে গুরতর জখম করেন। এ দুজন ছাড়াও হামলায় সময় আহত হন আরো ৫ জন।

মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়, আহতদের মধ্যে ৫ জনকে উদ্ধার করে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ৪ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরদিন গুরুতর আহত সাইদুর রহমান, আরিফুর রহমান, আজিজুর রহমান ও কামাল মিয়াকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়।

সাইদুর রহমান ও কামাল মিয়া এখনো ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান ঝিনুক বলেন, 'মামলার প্রধান আসামীর ছোটভাই বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন হওয়ায় হামলার সময় থেকেই পুলিশের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো। তাই হামলার পর স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের না করে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু আমরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এবং ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে।'

সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি তৈয়বুর রহমান বাবুল বলেন, 'বিজ্ঞ আদালত মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে মামলাটি আমলে নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট।'

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.