Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে নৌ-পুলিশের আঞ্চলিক দপ্তর আছে, নেই উপজেলা ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৬ জুলাই, ২০২৪

প্রতীকী ছবি

সিলেটে নৌ-পুলিশের একটি আঞ্চলিক দপ্তর রয়েছে, তবে সিলেটের নৌপথ সুবিধার উপজেলাগুলোতে নেই কোনো ইউনিট।

নৌ-পুলিশের কোনো ইউনিট না থাকায় নিশ্চিন্তেই চোরাচালান করে চোরাকারবারিরা।

বন্যার সময় সিলেট অঞ্চলের নৌপথগুলো সচল হওয়ায় সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার রুটগুলোতে নৌপথে চিনি, ওষুধ, কসমেটিকসসহ নানা ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে দেশে আসে। বর্ষাকালে নদীগুলোতে ভারতের পাহাড়ি ঢলে পানি বাড়ার ফলে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে নৌপথে চোরাচালান বাড়ে।

জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাঁড়াশি অভিযান চালায়। কিন্তু নৌপথে নজরদারি থাকলেও চোরাকারবারিদের ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত জলযান বা আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি না থাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করতে পারে না নৌ-পুলিশ। তাই নৌপথ পাড়ি দিয়ে যখনই সড়কপথে চোরাই পণ্য পরিবহন করা হয়, তখন সেগুলো জব্দ করে পুলিশ।

আঞ্চলিক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলায় নৌ-পুলিশের ইউনিট নেই। সুনামগঞ্জে পাঁচটি ফাঁড়ি এবং হবিগঞ্জে তিনটি ফাঁড়ি রয়েছে। এই আটটি ফাঁড়ির মধ্যে জলযান আছে মাত্র চারটিতে; মোট জনবল ৯৯ জন। একেকটি ফাঁড়িতে ৮ থেকে ১০ জন নৌ-পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্য থেকে ছুটি, অসুস্থতা, ট্রেনিং থাকায় গরহাজির থাকে। যারা কর্মরত থাকেন, তাদের নিয়েই বিভিন্ন অভিযান ও টহল পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে নৌ-পুলিশ সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন লোকবল কম ও ফাঁড়ির সংখ্যা অপ্রতুল থাকায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিলম্বিত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের নৌ-পুলিশের সব জায়গায় ইউনিট নেই; যেখানে যেখানে আছে, সেখানে আমরা নৌ-টহল করি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করি। গত দুই মাসে আমরা দুই দফা চোরাই চিনির চালান এবং অবৈধ মাদক ও কসমেটিকস ধরেছি। আমরা যখনই আমাদের নৌ-টহলে ও রাতে সংবাদ পাই, তখন আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিজেদের অবস্থা গুছিয়ে কনফার্ম হয়ে এরপর অভিযানে যাই। কারণ আমাদের জনবলের স্বল্পতা রয়েছে।’

পুলিশ সুপার বলেন, ‘একটি জেলা থানায় যেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন কাজ করেন, সেখানে আমরা স্বল্প জনবল নিয়ে দুর্গম এলাকায় কাজ চালাচ্ছি। সারা বাংলাদেশেই নৌ-পুলিশের জনবল কম। যেহেতু গোটা দেশে এই সমস্যা, তাই অনেক জায়গায় প্রয়োজন হলেও আমাদের ইউনিট নেই। অবশ্য নৌপথ নিরাপদ রাখতে জনবল বাড়াতে প্রস্তাব দেওয়া আছে।’

চোরাচালান ছাড়া নৌপথে ‘মার্কার’ দিয়ে ৩৯ পয়েন্টে চাঁদাবাজির ব্যাপারে নৌ-পুলিশ সুপার বলেন, ‘বর্ষাকালে মালামাল নিয়ে ডুবোচরে নৌযান আটকা পড়লে সহযোগিতার জন্য বাঁশের মধ্যে লাল কাপড় বেঁধে মার্কার দেওয়া হয়। কিন্তু আমার নৌ-পুলিশ থেকে বলেছি, এটাও করা যাবে না। এই মার্কারের খবর পেলেই আমরা অভিযান চালাই। নৌযানগুলোকে সহযোগিতার নাম করে টাকা নিতে চাইলেই অভিযান করে আমরা চাঁদাবাজদের ধরি।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.