নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ জুলাই, ২০২৪
প্রতীকী ছবি
সিলেট নগরে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৭ জুলাই) ভোর সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণ সুরমার খোঁজারখলার কাজীরবাজার ব্রিজসংলগ্ন সড়কে এই ঘটনা ঘটেছে।
ছিনতাইয়ের শিকার শিক্ষার্থীর নাম নবনীতা কর্মকার (২৭)।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ছিনতাই ঘটনার পর তিনি দক্ষিণ সুরমা থানায় ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় আটক দুই আসামি হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ের মো. আলা উদ্দিনের ছেলে সুহেল আহমদ রকি (১৯) ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জের পুরানদিঘলী গ্রামের আব্দুর নূরের ছেলে আলী নূর (২২)।
মামলার অন্য আসামি দক্ষিণ সুরমার খোজারখোলার আব্দুর হান্নানের ছেলে শিপলু আহমদ (৩০) পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছিনতাইয়ের শিকার ওই ছাত্রী বরিশাল থেকে বাসযোগে ভোর পাঁচটায় সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। এর আধাঘণ্টা পর স্ট্যান্ড থেকে অটোরিক্সাযোগে বাসায় ফেরার পথে খোঁজারখোলা পয়েন্টে পৌঁছামাত্রই তিনজন ছিনতাইকারী অটোরিক্সাটি আটক করেন। এসময় ছুরির ভয় দেখিয়ে সাবেক ওই ছাত্রীর কাছ থেকে সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করেন ছিনতাইকারীরা। তখন ওই ছাত্রী তার ভ্যানিটি ব্যাগে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শুধু ছিনতাইকারীদেরকে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু এরমধ্যে একজন ছিনতাইকারী ছুরি দিয়ে ছাত্রীর কাঁধে ঝুলানো ভ্যানিটি ব্যাগের ফিতা কেটে নিয়ে যান। ওই ছাত্রী পুনরায় কাগজপত্র ফেরত চাইলে একজন ছিনতাইকারী ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। তবে ওই ছাত্রীর গাঁয়ে আঘাত লাগেনি। এসময় ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন ওই ছাত্রী চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে একজনকে আটক করেন। এসময় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে এক ছিনতাইকারীকে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রী।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগরের দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রী ৩ জনের নামে মামলা করেছেন। দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো তবে। বাকি একজন আসামিকে ধরতে অভিযান চলছে।’