তাহিরপুর প্রতিনিধি | ১৫ জুলাই, ২০২৪
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি। প্রখর সূর্য আলোতে স্বস্তি ফিরেছে তাহিরপুরে বানভাসি মানুষের মধ্যে। কিন্তু বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষত নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
উপজেলার সাথে সাতটি ইউনিয়নের অভ্যন্তরিন সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় নৌকা দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। গুরুত্বপূর্ন তাহিরপুর বাদাঘাট সড়কে বন্যায় ব্যাপক ভাঙ্গনে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। পানিতে এখনও ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর যেসব বাড়িতে পানি কমেছে সে সব বসত বাড়ি পরিস্কার আর মেরামত নিয়ে ব্যস্থ সময় পার করছেন অনেকেই।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে বিপদ সীমার ২৯সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি না হওয়ার নদ নদীর পানি কমেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার হাওর ও নদী দিয়ে পানি ধীর গতিতে ভাটির দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে পানি বন্দি গ্রাম গুলোতে রয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাবারের পাশাপাশি গো খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। সড়ক পানিতে ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না অনেকেই।
উপজেলার সূর্যেরগাও গ্রামের বাসিন্দা মোজাহিদ মিয়া জানান, আমার ঘরে অবস্থা খুবেই খারাপ বন্যায় পানি আর মাটিয়ার হাওরের ডেউয়ে। এখন পানি কমলেও ঘরের বেহাল অবস্থা খাবার যোগাড় করব নাকি ঘর ঠিক করব বুজতে পারছি না। কেমনে দিন পার করমু আল্লাহ ভাল জানে। কোনো সহায়তাও পাছি না আর আর পাব কি না জানি না।
উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, বন্যায় সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের কয়েকটি জায়গায় পানি থাকায় গত ১৫ দিন পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভিন জানান,পানি অনেক কমছে, বন্যায় আক্রান্তদের সহায়তা অব্যাহত আছে। উপজেলার বন্যায় আক্রান্ত গ্রাম গুলোর দিকে নজর রাখছেন তিনি।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, আমি বন্যা শুরু হওয়া থেকেই আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করে সহায়তা করেছি। বন্যা আক্রান্তদের ত্রান সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার পানি কমেছে আশা করছি পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে মানুষের দুর্ভোগ কমবে।