Sylhet Today 24 PRINT

৬০ জনের প্রাণ বাঁচানোর আকুতি লিবিয়ায় বন্দি রবিউলের

জাহাঙ্গীর আলম খায়ের, বিশ্বনাথ  |  ১৫ জুলাই, ২০২৪

সিলেটের বিশ্বনাথের কারিকোনা গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবক গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস ধরে লিবিয়ার জেলে বন্দি রয়েছেন। ছেলের বন্দি থাকার খবর পেয়ে তাকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে তার মা নাছিমা বেগম প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া দূতাবাসে চিটি পাঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু তারপরও দেশে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে তার পরিবার।

একইভাবে নিরাশ বন্দিশালায় থাকা রবিউলও। সম্প্রতি চিরকুট লিখে হবিগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ব্যারিষ্টার সায়েদুল হক সুমন’র সহযোগীতা চেয়েছেন রবিউল।

মায়ের মোবাইল ফোনে পাঠানো বার্তায় রবিউল লিখেছেন, ‘বাবা আমি রবিউল, আমি ত্রিপোলি মাতার জেলে আছি। আমার সঙ্গে আরও ৬০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। সবাই অনেক কষ্টে আছি। এখানে বেশি দিন থাকলে এমনি মরে যাব। এখান থেকে আমাদের দেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করো। এখান থেকে আমাদের দেশে নিয়ে যেতে পারবে চুনারুঘাটের এমপি ব্যারিস্টার সুমন ভাই। যত তাড়াতাড়ি পার সুমন ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো, কথা বল। সুমন ভাই যদি চান আমাদের ৬০টা প্রাণ বাঁচাতে পারেন। আর তা না হলে পুলিশ আমাদের মাফিয়ার কাছে বিক্রি করে দেবে। সুমন ভাই আপনি আমাদের বাঁচান।’
 
সরেজমিন রবিউলের বাসায় গেলে কথা হয় তার মা নাছিমা বেগমের সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে লিবিয়ার জেল থেকে উদ্ধার চাই। তিনি সমকালের মাধ্যমে এমপি ব্যারিস্টার সুমনের সহায়তা চান।

নাছিমা বেগম জানান, তার স্বামী সিরাজুল হক উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিস সহায়ক। টানাটানির সংসার। এ কারণে বড় ছেলে রবিউলকে ধারদেনা করে উন্নত দেশে পাঠাতে মনস্থ করেন তারা। ২০২৩ সালের ২৫ জুলাই বিমানে প্রথমে দুবাই পাঠান। সেখানে লিবিয়ার অধিবাসী জনৈক আব্দুর রহমানের সঙ্গে ১৫ আগস্ট লিবিয়া পাড়ি জমান রবিউল। সেখানে ৬ মাস চাকরিও করেন। পরে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যেতে চাইলে বাংলাদেশি আহসান খান নামের এক দালালের কাছে রবিউলকে তুলে দেন লিবিয়ার দালাল আব্দুর রহমান। আহসান রবিউলের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পেলে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন। রবিউল কৌশলে বিষয়টি তাঁর পরিবারকে জানান। ছেলেকে বাঁচাতে রবিউলের মা নাছিমা বেগম প্রথমে ২ লাখ টাকা পাঠান। এরপরও দালাল আহসান রবিউলকে মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেন। গত ১২ জুন রবিউলসহ ৬০ বাংলাদেশি ধরা পড়েন। পরে তাদের লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির মাতার জেলে পাঠানো হয়। এখন সেখানে তারা চরম নির্যাতনের শিকার।

এদিকে ছেলের জীবন বাঁচাতে মা নাছিমা বেগম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের কাছে আবেদন জানান। ড. মোমেন বিষয়টি বিবেচনার জন্য প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরীর কাছে পাঠান। গত ৪ জুলাই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় বন্দি রবিউলকে ফেরত আনতে লিবিয়ার দূতাবাসে চিঠি পাঠায়।

এ প্রসঙ্গে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, কেবল রবিউল নয়, বন্দি থাকা সব বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.