সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৮ আগস্ট, ২০২৪
সুনামগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিবদমান দুটি পক্ষ আলাদা কর্মসূচি পালন করেছে।
একটি পক্ষ শনিবার দুপুরে শহিদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন ও অন্য পক্ষটি একই সময়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আওতায় ‘রেজিস্ট্যান্স উইকলি’ হিসেবে পৌর শহরের শাপলা চত্বরে গণস্বাক্ষর নিয়েছে। পরে তারা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে অবস্থান নেন।
জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরিতে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইমন দোজা শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী। আন্দোলনের শুরু থেকেই সুনামগঞ্জে রাজপথে ছিলাম। এ কারণে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন আমাদের বারবার হয়রানি করেছে। ভয়ভীতি দেখিয়েছে। তারপরও আমরা আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হইনি।
দোজা আরও বলেন, ৫ আগস্টের বিজয় মিছিল থেকে শুরু করে এর পরবর্তী দেশ সংস্কারের কাজে এখনো যুক্ত রয়েছি।
এই অংশের আরেক শিক্ষার্থী নাহাত হাসান পৌলমী বলেন, আমরা খবর পাচ্ছি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে কেউ কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করছে। শহরের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাদের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ চাঁদাবাজির সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই জড়িত নয়। বিষয়টি পরিষ্কার করতেই আজ আমরা সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। ছাত্র আন্দোলনের নামে কেউ চাঁদা চাইলে আমাদের বলবেন। আমরা ছাত্র জনতার এই আন্দোলনকে কলঙ্কিত করতে দেব না।
পৌলমী আরো বলেন, দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করে স্বাধীন করার পর এখন আমরা দেশের সংস্কার কাজ করছি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা মেয়েদের সাইবার বুলিং করছে।
আন্দোলনে তারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন দাবি করে অন্য পক্ষটির সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানায়।
এদিকে ‘রেজিস্ট্যান্স উইকলি’র পক্ষের আলোচনা সভায় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের মাস্টার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল বারী বলেন, আমাদের সর্ব প্রথম কর্মসূচি ছিল কোটা সংস্কার আন্দোলন। ১২ জুলাই আমরা কর্মসূচি পালন করি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা তখন কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। পর্যবেক্ষণ করে ওইদিনই আমি ফেসবুকে পোস্ট করি। পোস্টে লিখেছিলাম, সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীরা, যারা আন্দোলনে অংশ নিতে চান, তারা আমাকে নক দিবেন।
তিনি বলেন, আমি তিনটি ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ ক্রিয়েট করে ২৫০ জন করে ৭৫০ জনকে যুক্ত করি। পরে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে জড়ো করে বৈঠক করে আন্দোলনে সক্রিয় হই। তবে সেদিনও একটি অংশ আমাদের আন্দোলনে ছিল না।
অন্য অংশের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ওইদিন বিকালে তারা শহিদ মিনারে প্রতিবাদ হিসেবে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। আমরা তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে আমাদের সঙ্গে রাজপথে আসার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারা আমাদের কথা রাখেননি, তারা তখন বলেন, ‘রাজপথে থেকে আমরা রক্ত ঝরাতে চাই না’।
আব্দুল বারী আরও বলেন, আমরা ১৫ সদস্যবিশিষ্ট সমন্বয়ক কমিটি করেছিলাম। সেই কমিটির অনেকে আন্দোলনে ছিলেন, অনেকে ছিলেন না।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাইমন অপর পক্ষকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা যদি ১ জুলাই থেকে তাদের কর্মসূচি দেখি, তাহলে দেখি, তারা গানের মাধ্যমে, কবিতার মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছে। তারা রাজপথে আন্দোলন করেননি, তারা নিন্দা জানিয়েছেন। আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করেছি; আহত হয়েছি। নিন্দা জানানো এক জিনিস আর রাজপথে আন্দোলন করে প্রতিবাদ করা আরেক জিনিস।
তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, দুদিন ধরে তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ট্যাগ দিয়ে কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।