হামিদুর রহমান, মাধবপুর | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর হবিগঞ্জের মাধবপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিচ্ছে মাদক কারবারিরা। জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী মাধবপুর উপজেলা পুলিশের তল্লাশি চৌকি (চেকপোস্ট), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-সহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও অভিযান না থাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ শুধু মাদক কারবারিরাই নিচ্ছে না, মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা দু-একজন অসাধু কর্মকর্তা ও তাদের সোর্সরা জড়িয়ে গেছেন মাদক পাচারে সহযোগিতায়। মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সক্রিয় করার দাবি জানিয়েছে সীমান্তবর্তী মাধবপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকরা।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর উত্তেজিত মানুষ সারা দেশে থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। আত্মগোপন করেন পুলিশের অনেক কর্মকর্তা। ভেঙে পড়ে পুলিশি ব্যবস্থা। সড়কে পুলিশ দেখা যায়নি।
সারা দেশে উত্তেজিত জনতা বিভিন্ন থানায় হামলা ভাঙচুর করলেও এর ব্যতিক্রম ছিল মাধবপুর থানা। মাধবপুর থানার অন্য সকল কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক শুধু টহল, চেকপোস্ট ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রমের জন্যে পুলিশ বাহিরে না যাওয়ার পরিস্থিতির সুযোগ নেয় মাধবপুরের মাদক কারবারিরা। ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে আসা মাদক বিনা বাধায় নিয়ে যায় বিভিন্ন স্থানে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতায় অল্প কিছু মাদক ধরা পড়েছে।
বিজিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মাদক কারবারিরা চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে গত এক মাসে মাদকের একাধিক বড় চালান দেশে ঢুকানোর চেষ্টা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়,কর্মকর্তা- মাঠে সক্রিয় থাকলেও অভিযানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। অভিযান চালাতে গিয়ে নিরাপত্তাজনিত ঝামেলা ছিল স্থানীয় ভাবে পুলিশের। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে।
মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, আমি যোগদান করার পর থেকে পুলিশি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। মাদক আসা বন্ধ করতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।