Sylhet Today 24 PRINT

জগন্নাথপুরে শেষ মুহূর্তে জমে ওঠেছে পূজার কেনাকাটা

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর |  ০৮ অক্টোবর, ২০২৪

আগামী বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ লেগেছে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে। আর এ উৎসব রাঙাতে, পূজায় নিজেকে রঙিন পোশাকে সাজাতে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা।

ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার টিএন্ডটি রোড ডলফিন ফ্যাশন, ঘোষ শপিং সেন্টার, রাদিস শপিং সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি মার্কেটে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

পূজা উপলক্ষে কাপড়ের দোকানে নারীদের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন রংয়ের থ্রি-পিস, জামদানি শাড়ি, কাতান শাড়ি, লেহেঙ্গা ও তাঁতের শাড়ি। ছেলেদের জন্য রয়েছে বাহারি ডিজাইনের পাঞ্জাবি, ধুতি, শার্ট, টি-শার্ট, জিনস প্যান্ট। তাছাড়াও জুতার দোকানগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন রকমের জুতা। রয়েছে বাচ্চাদের বাহারি পোশাক। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী ক্রেতারাই পছন্দসই পোশাকের খোঁজে ঢুঁ মারছেন বিপণিকেন্দ্রগুলোতে।

দোকানিরা জানান, এবার বেশ ভালই বিক্রি হচ্ছে। গতবারের তুলনায় এবার ভালো ক্রেতা পাচ্ছি। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা আসছে, শেষমুহুর্তে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা তাদের।

পৌর শহরের জগন্নাথপুর বাজারে শপিং করতে আসা চম্পা নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘মা দুর্গাকে বরণ করতে লাল-সাদার সনাতনী সাজ অবশ্যই থাকবে। তবে তাতে আধুনিকতার ছোঁয়াও থাকা চাই।’ সে অনুযায়ীই তিনি কিনলেন লাল-সাদা জামদানি শাড়ি।

জগন্নাথপুর বাজারে মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা শাওন তিনি জানান, স্ত্রীর জন্য লাল-সাদা শাড়ি কিনেছেন এবং নিজের জন্য গাঢ় নীল রঙের ফতুয়া ও জিনস প্যান্ট কিনেছেন।

দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের পূজার বাজারে মেয়েদের শাড়ি, থ্রি-পিছ, টপ চাহিদা বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কাতান, কাঞ্চিবরণ, মিঠাই, ভয়েল, সাদা শাড়ি লাল পাই শাড়ির প্রতি আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে এবার পাঞ্জাবি, ফতোয়া, কাতোয়া, জিন্স প্যান্ট বেশ চলছে। অনেকে পাঞ্জাবির সঙ্গে পরার জন্য পূজার আমেজের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন ধুতিও।

পৌরশহরের টিএন্ডটি রোড ব্যবসায়ী ডলফিন ফ্যাশন মালিক জহিরুর ইসলাম বলেন, এবার ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের পোশাক উঠিয়েছি। তিনি জানান, পূজায় প্রতিবারের মতো এ বছরও শাড়ির চাহিদাই বেশি। এ ছাড়া তরুণীরা থ্রি-পিছ, টপ, সালোয়ার-কামিজ ও ছেলেরা পাঞ্জাবি ও ফতুয়া কিনছেন। বিক্রিও বেশ ভালো হচ্ছে।

জগন্নাথপুর বাজারের আল জান্নাত মার্কেটের আমিরা ইমিটেশন এন্ড কসমেটিকসের মালিক তৈয়বুর রহমান সিতু বলেন, কসমেটিকসের কেনাকাটা সারা বছরই চলে। এখনও চলছে। তবে পূজা ঘিরে চাহিদা বাড়ে, আলহামদুলিল্লাহ বিক্রি ভালই হচ্ছে।

কসমেটিকসের দোকানগুলোতেও চলছে জমজমাট কেনাকাটা। মেয়েরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন চুড়ি, গলার হার, আংটি সহ নানা রকম অলঙ্কার। পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের জুয়েলারি, সিঁদুর, চুড়িসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানান দোকানিরা।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, উপজেলার কোনো পূজা মণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ নেই। উপজেলার সকল পূজা মণ্ডপে নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ব্যাটেলিয়নের সদস্যরা কাজ করবেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.