Sylhet Today 24 PRINT

প্রয়োজনে ইটনা-মিঠামইন সড়ক সংস্কার করা হবে: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৩ নভেম্বর, ২০২৪

মৎস ও প্রাণি সম্পদ উপদেষ্টা  ফরিদা আখতার বলেছেন, সিলেটকে বন্যা থেকে রক্ষা ও পানির অবাদ প্রবাহ নিশ্চিতে প্রয়োজনে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্ট্রগ্রাম সড়ক সংস্কার করা হবে। প্রয়োজনে বেশ কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হবে।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে সিলেটে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ কথা বলেন তিনি।

সিলেট মৎস অধিদপ্তরের আয়োজনে নগরীর খ্যান প্যালেস কনভেনশন হলে ‘‘হাওরে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় স্টেকহোল্ডার্স কনসাল্টেশন ওয়ার্কশপ’’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এটিএম মোস্তফা কামাল।

এতে মৎস ও প্রাণি সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘সিলেটের নদ–নদীর অবাধ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে ও সিলেটকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনে ইটনা–মিঠামইন–অষ্ট্রগ্রাম সড়কের বেশ কিছু অংশ ভেঙে ফেলা হতে পারে। এজন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।’

ফরিদা আখতার আরও বলেন, ‘নির্বিচারে হাওর ভরাট হচ্ছে। আধুনিকতার নামে হাওরে অপরিকল্পিতভাবে বাধ ও রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওর ও মৎসসম্পদ। ফলে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে।’

ফরিদা আখতার বলেন, হাওরের মাছ প্রকৃতির দান। প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারণ করে মাছের প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট সময় না দিয়ে মানুষ ভোক্তা ও আহরণকারী হিসেবে অত্যন্ত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

স্টেকহোল্ডারস্ কনসাল্টেশন ওয়ার্কশপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার আবু আহমদ ছিদ্দীকী, এনডিসি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান। এতে হাওর বেষ্টিত সাতটি জেলার জেলা প্রশাসক, তাদের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অংশীজনেরা অংশগ্রহণ করেন।

ওয়ার্কশপে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, হাওরে মাছের গতিপথে অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের ফলে মাছের বিচরণ ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জাল দিয়ে মাছ ধরে দেশীয় প্রজাতিগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে।

যারা মাছ ধরছেন তাদের ভূমিকা অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পেশায় যাঁরা নিয়োজিত তাঁদের প্রতি অনেক অন্যায় করা হয়েছে। যাঁরা সত্যিকারের মৎস্যজীবী তাঁদেরকে মূল্যায়ন করা হয়নি। এতদিন জলমহাল যাদের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে, তারা অতি মুনাফার লোভে মাছের ক্ষতি করেছে। এজন্য প্রকৃত মৎস্যজীবীদের স্বার্থ সংরক্ষণে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষা করা অত্যন্ত দরকার। উপদেষ্টা আরো বলেন, মাছ ধরা পেশাকে আধুনিকায়ন করতে হবে, যাতে তাঁরা সম্মানের সাথে বাঁচতে পারেন।

মাছের প্রজননকালীন মাছ ধরতে নিষিদ্ধের বিষয়ে হাওর অঞ্চলে বিলবোর্ড ও রেডিও-টেলিভিশনে এ সংক্রান্ত প্রচারণা চালানো যেতে পারে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, এসময়ে হাওর অঞ্চলে মাছ ধরার নিষিদ্ধের পাশাপাশি পর্যটনও সমন্বয় করা যেতে পারে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.