নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ নভেম্বর, ২০২৪
সিলেট নগরের শাহপরান এলাকায় দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষে বিলাল আহমদ মুন্সী (৩৫) নামে এক যুবদল কর্মী নিহতের ঘটনায় ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।
এদিকে, বিলাল হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে তার মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। বিকেল ৩ টায় শাহপরান গেটে সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে স্থানীয় লোকজন ও যুবদল নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সোমবার রাত ১০টার দিকে শাহপরাণ থানাধীন বাহুবল এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন বিলাল। পেশায় রংমিস্ত্রি বিলাল আহমদ মুন্সী বাহুবল আবাসিক এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহুবল এলাকার স্কুলছাত্র সাকের ও রাশেদের মধ্যে সিনিয়র ও জুনিয়র দ্বন্দ্ব নিয়ে কদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। এলাকার কিছু লোক দুইপক্ষে বিভক্ত হয়ে এই বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সালিশ-বৈঠকও হয়। কিন্তু পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। এরই জের ধরে সাকেরের পক্ষ নেন যুবদল-ছাত্রদলের সিলেটের শাহজালাল উপশহর গ্রুপের কিছু নেতাকর্মী।
সোমবার রাত ১০টার দিকে যুবদলের উপশহর গ্রুপের কয়েকজন নেতাকর্মী সশস্ত্র অবস্থায় বাহুবল এলাকায় যান।
এসময় তারা স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবদল কর্মী বিলাল আহমদ মুন্সী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের পর দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ আছর তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয় নি। তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করেছে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, ময়না তদন্তের পর মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে শাহপরাণ বাজারে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী।