বড়লেখা প্রতিনিধি | ০১ ডিসেম্বর, ২০২৪
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামে জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে রুবেল আহমদ নামে এক ওমান প্রবাসীর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ওই প্রবাসীর বাবা গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, চলাচলে একমাত্র (এজমালি) রাস্তা সংস্কার করতে চাওয়ায় তার আপন ভাইয়েরা তাতে প্রতিবন্ধকতা তৈরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি ও ঘর নির্মাণে বাধা প্রদান করছে। এমনকি তার নামে এবং তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে ওই প্রবাসীর পরিবার চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে তারা ন্যায় বিচার চেয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিমুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমান প্রবাসী রুবেল আহমেদের বাবা গিয়াস উদ্দিনের সঙ্গে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার আপন ভাইয়ের নাজিম উদ্দিন গংদের বিরোধ চলছে। সম্প্রতি রুবেল চলাচলের একমাত্র রাস্তার (এজমালি) পাশের জায়গায় নতুন পাকাঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি চলাচলের রাস্তায় কিছুটা মাটি ফেলে মেরামত করতে চাইলে গত ১৮ নভেম্বর চাচা নাজিম উদ্দিন গংদের সাথে রুবেলের বাবা ও ভাইদের ঝগড়া হয়। এই ঘটনায় রুবেলের চাচা নাজিম উদ্দিন গত ২০ নভেম্বর জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযাগ এনে রুবেল ও তার বাবা-ভাইদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছেন। এরমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে (মামলা নং-৩১/২০২৪) একটি পিটিশন মামলা করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালত বিরোধীয় ভূমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। এছাড়া বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপর মামলাটি করেন। যা আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত করছে।
সরেজমিন শুক্রবার দুপুরে দেখা গেছে, যে চলাচলের কাঁচা রাস্তা (এজমালি) নিয়ে বিরোধ চলছে, তাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই। রাস্তার বাঁ পাশে রুবেল ও তার চাচা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মজির উদ্দিনের দ্বিতল পাকা ভবন রয়েছে। চাচা দ্বিতল ভবনের দক্ষিণ পাশে রুবেলের নির্মাণাধীন ভবনের পিলার ঘেঁষে দেয়াল তৈরি করে রেখেছেন। দেয়ালের অপর পাশে প্রবাসী রুবেল নতুন ঘর তৈরির কাজ করছেন। তবে আদালতের নিষেধজ্ঞা জারির পর রুবেল ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছেন।
প্রবাসী রুবেলের বাবা গিয়াস উদ্দিন শুক্রবার দুপুরে বলেন, আমার ভাইদের সাথে জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তারা আমাদের নিরীহ পেয়ে নানাভাবে জুলুম-নির্যাতন করছে। আমাদের এক শতক জায়গার ওপর জোর করে শৌচাগার নির্মাণ করেছে। যা এলাকার সবাই জানেন। যা নিয়ে বিচারও হয়েছে। এর কয়েক বছর আগে তারা আমার ছোট ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এখন আমাদের জায়গার ওপর ঘর নির্মাণ করতে বাধা দিচ্ছে। নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। সবাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য একটি এজমালি রাস্তা আছে। সেখানে আমার ঘরের সামনের অংশ প্রশস্ত ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মেরামাত করতে গেলে তারা তাতেও বাধা প্রদান করছে। হামলা করেছে। ভয়ে আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। এখন আমার ভাই নাজিম উদ্দিন বড়লেখা কোর্টে একটি ও ইউএনও’র আদালতে একটিসহ দুটি মিথ্যা মামলা করেছে। মামলার পর ইউএনওর আদালত থেকে জায়গার উপর ১৪৪ ধারা জারি করে নোটিশ প্রদান করেছেন। আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা ঘরের কাজ বন্ধ রেখেছি। আগামী ১৩ ডিসেম্বর কাগজপত্র নিয়ে আমরা আদালতে যাব। কোর্টে মামলার বিষয়টি পুলিশ বৃহস্পতিবার এসে তদন্ত করে গেছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মুরব্বিদের নিয়ে বসা হয়েছে। এতে তারা (ভাইয়েরা) চলাচলের রাস্তায় কোনো প্রকার বাধা দিবে না বলে স্ট্যাম্পে লিখিত দিয়েছে। এরপরও নানাভাবে হয়রানি করছে। কোনোভাবে তারা সমাধান করতে চাইছে না। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
তবে হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে প্রবাসী রুবেলের চাচা মামলার বাদি নাজিম উদ্দিন মুঠোফোনে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাই গিয়াস উদ্দিন ও তার ছেলেরা আমাদের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে ঘর নির্মাণ করেছে। এখন তারা একই দাগের ভূমির ওপর জোর করে ঘর নির্মাণ করছে। আমাদের চলাচলের রাস্তায় মাটি ভরাট করে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করছে। আমরা বাধা দিলে তারা উল্টো আমাদেরকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এজন্য আমরা ন্যায় বিচারের জন্য আইনের দারস্থ হয়েছি।
বড়লেখা থানার এএসআই হালিম শিকদার জানান, আদালতের নির্দেশে গত ২১ নভেম্বর বিরোধীয় ভূমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই ভূমিতে কোনোধরনের কাজ না করার জন্য বিবাদীদের নোটিশ দিয়েছেন।
বড়লেখা থানার এসআই নিউটন দত্ত শুক্রবার বিকেলে বলেন, কোর্টের নির্দেশে তিনি সরেজমিন বিরোধপূর্ণ ভূমি দেখে এসেছেন। তদন্তে তিনি যা পেয়েছেন তা উল্লেখ করে শীগ্রই আদালতে প্রতিবেদনে জমা দেবেন। তিনি জানান, এই ভূমি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে আরেকটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় আদালত উক্ত ভূমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। এই মামলাটি একজন এএসআই তদন্ত করছেন।