Sylhet Today 24 PRINT

ভাবির কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে যুদ্ধে যান গেরিলা যোদ্ধা জালাল উদ্দিন

শাকিলা ববি |  ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

বয়সের ভারে নুয্য শরীর।  লাটিতে ভর করে চলাচল করতে হয় তাকে। ঠিকমত কথাও বলতে পারেন না তারপরও মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনলেই উদ জীবিত হয়ে উঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মো. জালাল উদ্দিন (৭৫)। দেশের জন্য প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া ৭১ সালের সেই টগবগে যুবকের স্মৃতি এখন অনেকটা হারিয়ে যাওয়ার পথে। তারপরও মুক্তিযুদ্ধের টুকরো টুকরো স্মৃতি তিনি  ব্যক্ত করেন।


সিলেট নগরীর মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা শেখ মো. জালাল উদ্দিনের বয়স ৭১ সালে ছিল ২৩ বছর।  ঠিকাদারির পাশাপাশি পারিবারিক ব্যবসা সিলেট নগরীর বন্দরবাজার এলাকার সনামধন্য খাবার প্রতিষ্ঠান ' মর্ডান রেস্টুরেন্ট' তিনি নিয়মিত দেখাশোনা করতেন ভাইদের সাথে। ৭১ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ও তার চাচাত ভাই শামসুদ্দিন মিলে যুদ্ধে যান। ৪ নং সেক্টরে সিআর দত্তের অধীনে যুদ্ধ করেন তিনি।

৬ ভাই ৬ বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন জালাল উদ্দিন। তৎকালীন অবিবাহিত জালাল উদ্দিনের বাবা, মা ছিলেন প্রধান পথ প্রর্দশক। তাই মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার কথা প্রথমে এসে মা বাবাকেই বলেন। তিনি বলেন, আমি যখন  যুদ্ধে যাওয়ার কথা মা বাবাকে বলি তারা মান করেননি। শুধু বলেছেন নিজের খেয়াল রাখতে। যখন যুদ্ধে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে রওয়ানা  করি তখন আমার মেঝ ভাইয়ের বউ আছমা বেগম ১০০ টাকা দেন খরচের জন্য।

জালাল উদ্দিন ছিলেন গেরিলা যোদ্ধা। কালভার্ট, ব্রিজ ধ্বংস করা, পাকবাহিনীর যেখানে অবস্থান তার আশপাশে বিস্ফোরণ করাসহ ঝটিকা ও চোরাগোপ্তা  আক্রমণে অংশ নিতেন জালাল উদ্দিন।

যুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,  একবার সিলেট নগরীর মিরাবাজার এলকায় বিদ্যুতের ট্রান্সফারমার ধ্বংস  করি। এরপর ঈদের জুতা কিনতে হাসান মার্কেট এলাকায় গেলে ধরা পড়ি পাকিস্তানিদের হাতে। হাসান মার্কেট এলাকা থেকে আমাকে পাকিস্তানিরা ধরে ডান্ডাবেড়ি লাগিয়ে ক্যাডেট স্কুলে নিয়ে যায়। সেখানে আমার উপর খুব অত্যাচার করে। চারদিন পর আমাকে জেলে দিয়ে দেয়। এরপর ডিসেম্বর মাসে সিলেট শহরে পাক হানাদার বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটির ওপর বিমান হামলা চালায় ভারত। ভারতীয় বিমান হামলায় জেলে দরজা ভেঙে যায়। তখন আমরা ৬৪ জন মুক্তিযোদ্ধা একসাথে বের হই।


শেখ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বর্তমান উপশহর আগের ডুবরি হাওরে এলাকায়ও আমি দায়িত্বরত ছিলাম। হেলিকপ্টার নামার আগে আমি সিগনাল দিতাম। আমি  পতাকা নেড়ে সিগনাল দিলেই এই হাওরে হেলিকপ্টার নামতো। এটাও ছিল খুব ঝুঁকিপূর্ন কাজ। কারণ আগে আশপাশের এলাকা রেকি করে দেখতাম পাকিস্তানিরা আছে  কি না। তারপর সিগনাল দিতাম। হেলিকপ্টার উঠানামা শেষে আবার লুকিয়ে পরতাম।

মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বর্তমানে সিলেট নগরীর মাছিমপুর এলাকায় তার মেজো মেয়ে চুমকির সঙ্গে বসবাস করছেন। চার ছেলে চার মেয়ের মধ্যে তিন মেয়ে ছাড়া সবাই প্রবাসে থাকেন। তিনি মাসে ২০ হাজার টাকা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.