Sylhet Today 24 PRINT

ইন্টেলেকচুয়াল ডিসকাশনের চাইতে গণসংলাপ দরকার: রিফাত হাসান

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

'ইন্টেলেকচুয়াল ডিসকাশনের চাইতে গণসংলাপ দরকার। সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার হল, একটা গণবিপ্লবের পর যারা ক্ষমতায় আসলেন, আর যারা ক্ষমতায় আসতে চাইছেন ভবিষ্যতে, তারা সবাই নিজের নিজের বহুদূরের দ্বীপে বসে কথা বলছেন ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যেন আশেপাশে কেউ নেই। মানুষের অভিপ্রায় জানতে কেউ একটা গণসংলাপের আয়োজন করা জরুরি মনে করে নাই। এই দ্বীপটা ভাঙুন। মানুষের অভিপ্রায় জানতে, সবার আগে গণসংলাপ ডাকুন ও ফ্যাসিস্টের রাজনীতির অধিকার ও নতুন সংবিধান প্রশ্নে প্রয়োজনে গণভোট আহবান করুন।'

চিন্তা ও ফিকিরের সংঘ ফকিরির আয়োজনে রুহ, মুক্তি ও সংবিধান শীর্ষক আলাপ ও আড্ডা অনুষ্ঠানে লেখক রিফাত হাসান এসব কথা বলেন।

২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬ টায়, সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমি মিলনায়তনে রুহ, মুক্তি ও সংবিধান শীর্ষক এই আলাপ ও আড্ডার আয়োজন করা হয়।

জুলাই জেনোসাইডের প্রসঙ্গে রিফাত হাসান বলেন, 'জুলাই জেনোসাইডের পরে জেনোসাইডকারীদের রাজনীতির অধিকার আছে কিনা, তার সিদ্ধান্ত প্রশ্নে কেবল বিএনপি আর জামায়াতের ছোট বড় কায়েমি নেতা আর ব্যবসায়ীরাই স্টেকহোল্ডার না। স্টেকহোল্ডার সাধারণ মানুষ। এই আমজনতার মতামত ছাড়া আপনারা কোন অথরিটিতে ফ্যাসিস্টের পুনর্বাসনের পক্ষে কমিশন করেন ও রায় দেন?'

রিফাত হাসান আরও বলেন, ইন্টেলেকচুয়াল আলাপ আমরা গত পনের-ষোল বছর বসে বসে করেছি। আমাদের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও রাজনীতি এখনও যদি স্পষ্ট না হয়, এখন আর আপনাদের বুদবুদ শুনে কাজ নেই। আপনারা আবার একই সা-রে-গা-মা-পা-তে নাকানি চুবানি খাচ্ছেন, এর অর্থ পুরনো ফুলের বাগানের প্রতি আপনি স্মৃতিকাতর, যা আমরা হাসিনার আমলে ফেলে আসছি। মেনে নিন, তা আর ফিরে আসবে না।

তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে নতুন বাংলাদেশের যে দর্শনগত জায়গা, তা এর আগের দর্শনগত জায়গার সাথে এক না। এই অভ্যুত্থান হাসিনা ও বাকশালের কলোনীব্যবস্থার অনেকগুলো ভেল্যু অস্বীকার করেছে ও গুড়িয়ে দিয়েছে। ১৯৭১ এর জন-মুক্তির যুদ্ধে বিজয়ের পরে আমাদের মুক্তি ও রুহের জায়গাটা লিমিট করে দিয়েছিল বাহাত্তরের সংবিধান। তার পরিবর্তে ঢুকিয়েছিল চার মূলনীতি, আর বাঙালি জাতীয়তাবাদ, যা মূলত অনন্ত ন্যায়যুদ্ধের বীজগণিত হিশেবে কাজ করেছে। এই বীজগণিত মূলত অন্যায় যুদ্ধ ও ফ্যাসিস্টদের অনন্ত গণহত্যার দ্বার উন্মুক্ত করেছিল। ফলে, রাষ্ট্র ও সংবিধানের সাথে আমাদের টুটে যাওয়া রুহ ও চব্বিশে যে জনমুক্তির অভিপ্রায় টের পাওয়া গেছে, তার সংযোগ ঘটাতে না পারলে, এই অভ্যুত্থান অনর্থ হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের শতাধিক কবি-সাহিত্যিক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ। ফকিরির সদস্যের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংক্ষিপ্ত পরিচিতিমূলক বক্তব্যের পরই রিফাত হাসানের হাতে মাইক্রোফোন তুলে দেওয়া হয়। রিফাত হাসানের দীর্ঘ আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রোতারা লেখকের সঙ্গে উন্মুক্ত আড্ডায় অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে রিফাত হাসানকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা জানান কবি-শিক্ষক মোহাম্মদ বিলালউদ্দিন এবং শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক এনামুল কবির।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণার সময় সুফি সুফিয়ান ফকিরির পরিচয় দিয়ে ভূমিকা দেন। তিনি জানান, ফকিরি মূলত সিলেট শহরের তরুণদের মধ্যে চিন্তাভাবনা উসকে দিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করাতে চায়। এই লক্ষে দেশের জ্ঞানী গুণী ও চিন্তকদের নিয়ে আলাপ-আড্ডার আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই আলোচনায় রিফাত হাসানকে আনতে পেরে ফকিরি আনন্দিত। তিনি উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.