Sylhet Today 24 PRINT

ভোলাগঞ্জে রেলওয়ের বাংকার থেকে অবৈধভাবে পাথর তুলতে গিয়ে শ্রমিক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৩ জানুয়ারী, ২০২৫

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকারে পাথর তুলতে গিয়ে লিটন মিয়া নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউপির  বাঘারপাড় গ্রামের নবী হোসেনের পুত্র। সোমবার সকাল ৯ টায় ভোলাগঞ্জ রেলওয়ে বাঙ্কারের এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় লিটন মিয়া তার সহযোগীদের সাথে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকার এলাকায় অবৈধভাবে পাথর তুলতে যান। বাংকারের স্থাপনার নিচ ও আশপাশ থেকে পাথর উত্তোলন করার সময় উপর থেকে দেয়াল ধসে তার উপর পড়ে যায়। এসময় তিনি গুরুতর আহত হয়লন। পরে তার সাথে থাকা অন্যরা উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করি। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

রোপওয়ে বাঙ্কারে নিয়োজিত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) উপ-পরিদর্শক (ইনচার্জ) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রোপওয়ে এলাকায় তাদের কোনো আবাসিক ব্যবস্থা নেই। এজন্য তারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। একজন শ্রমিক পাথর তুলতে গিয়ে চাপা পড়ে মৃত্যুর বিষয়টি শুনে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন পক্ষের নির্দেশনা পেলে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ভোলাগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের ছাতক পর্যন্ত রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র রোপওয়ে (রজ্জুপথ)। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির পাশে রোপওয়ের লোডিং স্টেশনের বাঙ্কার এলাকা পড়েছে। পাথর পরিবহনে স্থল কিংবা জলযানের বিকল্প হিসেবে ১৯৬৪ সালে ভোলাগঞ্জ থেকে ছাতকে রজ্জুপথ স্থাপন করা হয়। ১১৯টি খুঁটির মাধ্যমে তৈরি হয় রোপলাইন। এর মধ্যে আছে ভোলাগঞ্জ লোডিং স্টেশন (বাঙ্কার) ও ছাতক খালাস স্টেশন। রোপলাইন আশির দশক পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করে। এরপর অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ ২০০১১ সালের দিকে কিছুদিন চলে বন্ধ হয়ে পড়ে। স্থল ও জলপথে পাথর পরিবহন সহজলভ্য হওয়ায় রোপওয়ে চলাচল ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় রোপলাইন বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে গত ৫ আগস্ট সরকারের পটপরিবর্তনের পর থেকে রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছিল। পাথর লুট বন্ধ করতে প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.