Sylhet Today 24 PRINT

আটকে গেছে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক ফোর লেন প্রকল্প

শাকিলা ববি |  ১৭ মে, ২০২৫

সিলেট-বাদাঘাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ‘কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক ফোর লেন উন্নতকরণ’ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। প্রায় ৭২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের জুনে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন করে মামলা ও জমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে বছর গড়িয়ে গেলেও শেষ হচ্ছে না প্রকল্পের কাজ। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এ ফোর লেন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সওজ সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর যানজট এড়াতে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে সংযোগ হওয়া কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়কের গুরুত্ব বিবেচনায় আসে। বাণিজ্যিক যানবাহনের ডাইভারশন রোড হিসেবে প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে পাথরবাহী ট্রাক চলাচল, বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা এবং পর্যটকবাহী যান চলাচলের জন্য সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি ওঠে। ২০১৬ সালে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি হয়। পরের বছর চার লেন সড়কের সঙ্গে দুটি সার্ভিস লেন যুক্ত করে তৈরি করা হয় সংশোধিত প্রস্তাবনা। ২০১৯ সালের দিকে শুধু চার লেনের প্রস্তাবনা জমা পড়ে মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু কাজের কাজ এগোয়নি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পে গতি আসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পের কাজ গত বছরের জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা ছিল।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফোর লেন প্রকল্পে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের ছয় কিলোমিটার অংশ কুমারগাঁও বাস স্টেশন পর্যন্ত। সেখান থেকে বাদাঘাট হয়ে এয়ারপোর্টের কাছে ওসমানী বিমানবন্দর সড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ফোর লেনের মোট ১২ দশমিক ৭৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য সড়কের মধ্যে ৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার জায়গা আছে সওজের নিজস্ব মালিকানায়। তাই ফোর লেনের কাজ ৪.৩ কিলোমিটার জায়গায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে এর বাইরে যে ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা আছে সেসব অধিগ্রহণে নিতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে সওজ। অথচ জমি অধিগ্রহণের জন্য অগ্রিম ৭৭ কোটি টাকা সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়ে রেখেছে সওজ। কিন্তু যারা জমির মালিক বা ভোগদখলে আছেন, তারা সঠিক কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় জমি অধিগ্রহণের কাজে এগোতে পারছে না সওজ।

ফোর লেনের কাজ করতে হচ্ছে বড়শালা মৌজা, চাতল মৌজা, ধূপনিখোলা মৌজায়। এ তিনটি মৌজায় বিভিন্ন জায়গায় চারটি মামলা আছে। ফলে কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, তেমুখী থেকে সিলেট কারাগার পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার পাকা সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। এখন সড়কের এ অংশে ড্রেন আর ডিভাইডারের কাজ চলছে। কারাগারের সামনে থেকে পুরো নীলগাঁও এলাকার প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কে কাজ করতে দিচ্ছেন না সেখানকার মানুষ। এখানে শুধু একটি কালভার্ট করা হয়েছে। পাশেই রয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। সেখানকার প্রবেশ মুখের পর থেকে নীলগাঁওয়ে যাওয়ার রাস্তার যে সংযোগ সড়ক দরকার, সেই জায়গায় স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীরা কাজ করতে দিচ্ছেন না। এ নিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা একটি মামলাও করেছেন।

নীলগাঁওয়ের শেষ অংশ থেকে বাইশটিলা বাজারের আগ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে সব ধরনের কাজ শেষে শুধু ঢালাই বাকি ছিল। গত ২০ মার্চ কাজে বাধা দেন সামাউড়াকান্দি, বাওরকান্দি এলাকার মানুষ। জমি অধিগ্রহণের নোটিস না পাওয়া ও টাকা না পাওয়ার কারণে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি তাদের দাবি, সড়কের পশ্চিমপাশে একটি ড্রেন করা। বাইশটিলা বাজারে কোনো কাজ শুরু হয়নি। তবে বাজার পরবর্তী বাইশটিলা এলাকা থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত মাটি ফেলা ও কালর্ভাট তৈরির কাজ চলছে।

সামাউড়াকান্দির সিদ্দিক আলী বলেন, এখনো জায়গা অধিগ্রহণের টাকা আমরা পাইনি। যার কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে তাদের কাজ বন্ধ করে রেখেছি আমরা। তাদের বলেছি রাস্তার এক সাইডের কাজ করতে। অপরদিকে যে জায়গাটি রয়েছে সেখানে একটি ড্রেন করতে হবে। না হলে আমরা এ কাজ করতে দেব না। আমাদের দাবির বিষয়টি সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক দেখছেন। তিনি সওজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে আমদের আশ্বস্ত করেছেন।

ক্ষমতার পট পরিবর্তনে নতুন করে জটিলতার বিষয়টি স্বীকার করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, ‘ফোর লেন সড়কের কাজ সঠিক সময়ে শেষ না হওয়ার পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত জমি অধিগ্রহণ। জমি অধিগ্রহণ করা হয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে। তাই আমরা অগ্রিম ৭৭ কোটি টাকা সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়েছি। কিন্তু জমির সঠিক কাগজ ও মূল মালিক জেলা প্রশাসকের দপ্তরে না গেলে অধিগ্রহণের টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। অনেকেই সঠিক কাগজপত্র নিয়ে আসেননি। আবার দেখা গেছে অনেক জায়গার মালিক প্রবাসে আছেন। তাই অধিগ্রহণ কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার পেছনে মামলা প্রধান বাধা উল্লেখ করে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, তিনটি মৌজায় কাজ হচ্ছে এ প্রকল্পের। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে, এই তিন মৌজায় বিভিন্ন এলাকায় জায়গার ওপর চারটি মামলা রয়েছে। তাই মামলা জটিলতার কারণেও কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.