নিজস্ব প্রতেবেদক | ২২ জুন, ২০২৫
ফাইল ছবি
সিলেট নগরের লামবাজার এলাকার শনিবার সরকারি গেজেটভূক্ত এক ‘জুলাইযোদ্ধা’কে মারধরের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অতিরিক্ত উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) জসিম উত্তিনকে প্রত্যাহার করে নেয় মহানগর পুলিশ। আর মারধরের শিকার ইসলাম উদ্দিন ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।
এ ঘটনার বিবরণ দিয়ে শনিবার রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। এতে ঘটনার বিবরণে বলা হয়- নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল এবং চুরি ছিনতাই প্রতিরোধে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় রাত্রিকালীন বিশেষ মোবাইল টিম কাজ করছে। ২১/৬/২০২৫ খ্রি: কোতোয়ালী মডেল থানার লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এমসিসি নং ১৭২/২৫ খ্রি: মূলে এএসআই (নি:) জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি মোবাইল পার্টি জিতু মিয়ার পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে রাস্তার পাশে ভ্যানে করে চা বিক্রি করছিল জনৈক ইসলাম উদ্দিন। রাত্রিকালে জিতু মিয়ার পয়েন্ট ও আশেপাশে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় এএসআই জসিম তাকে ওখান থেকে চলে যেতে বলে এবং সকালে চা দোকান বসাতে বলে। তখন ইসলাম উদ্দিন চলে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি একজন জুলাইযোদ্ধা, কখনো পুলিশ তাকে দোকান বসাতে বাধা প্রদান করে না। সে তার মোবাইল দিয়ে ভিডিও ধারণ করতে থাকে। ভিডিও করা নিয়ে এএসআই জসিম ও জুলাই যোদ্ধা ইসলাম উদ্দিনের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়- উক্ত ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারে নির্দেশে এএসআই জসিম উদ্দিনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। উক্ত ঘটনা অনুসন্ধানপূর্বক মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার, উত্তর (অপরাধ) মোঃ শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটিকে ০৩(তিন) দিনের মধ্যে রিপোর্ট করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
তবে শনিবার এ ঘটনার ব্যাপারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সিলেটের মিডিয়া সেলের সম্পাদক ও যুগ্ম সদস্য সচিব ফখরুল হাসান জানান, ইসলাম উদ্দিন প্রতিদিনের মতো শনিবার ফজরের পর দোকান খুলেন। এসময় এএসআই জসিম এসে এতো সকালে দোকান না খুলতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে ইসলাম নিজের জূলাইযোদ্ধা পরিচয় দেন। তখন এসআই জসিম ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, 'তুই যোদ্ধা! তোরা তো পুলিশ মারছিস, ফাঁড়ি জ্বালাইছিস'- এই বলে কিল, ঘুষি, থাপ্পড় মারতে মারতে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবলের হস্তক্ষেপে এসআই জসিম ও অন্যান্য পুলিশ সদস্য তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান।''