Sylhet Today 24 PRINT

শিশু ইনায়াকে বাথরুমে নিয়ে খুন করেন বাবা!

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২৬ জুন, ২০২৫

সিলেট নগরের মেজরটিলা এলাকায় ঘরের ভেতর থেকে শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত শিশুর নাম ইনায়া রহমান। তার বয়স আনুমানিক ২ মাস। সে ইসলামপুর এলাকার সিএনজি অটোরিকশা চালক আতিকুর রহমানের (৪৫) মেয়ে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শিশু ইনায়া রহমানকে হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন তার বাবা আতিকুর রহমান।

আতিকুর রহমানের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, আতিকুরের জবানবন্দিসহ অন্যান্য তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হ‌ওয়া গেছে যে শিশুর বাবা তাকে বাথরুমে নিয়ে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন এবং নিজেও গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর রহমান জানিয়েছেন মাথাব্যথার কারণে  তার মাথায় হঠাৎ কি যেন হয়েছিল বুঝতে পারেননি।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শাহপরাণ (রহঃ) থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হবে।

তিনি জানান, আতিকুর রহমান এখনও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘরে উপস্থিত আতিকুর রহমান এর স্ত্রীর বক্তব্য এবং নিহত শিশু ইনায়া রহমান এর পিতা আতিকুর রহমানের জবানবন্দি সহ অন্যান্য তথ্য প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হ‌ওয়া গেছে যে শিশুর পিতা তাকে বাথরুমে নিয়ে বটি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন এবং নিজেও গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। জিজ্ঞাসাবাদে আতিকুর রহমান জানান মাথাব্যথার কারণে  তার মাথায় হঠাৎ কি যেন হয়েছিল বুঝতে পারেননি।ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত বটি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শাহপরাণ (রহঃ) থানায় হত্যা মামলা রুজু করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, পরিবার নিয়ে ইসলামপুর এলাকার আনসার মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন আতিকুর। প্রতিদিনের মতো বুধবার দুপুরে খাবার খাওয়ার পর স্ত্রীসহ আতিকুর রহমানের পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। বিকেলে হঠাৎ করে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দেখতে পান আতিকুর রহমানের পাশে তার ২ মাসের মেয়ে ইনায়া রহমানের গলাকাটা এবং পাশেই অটোরিকশা চালক আতিকুর রহমানের গলা অর্ধেক কাটা রয়েছে।

নিহত শিশুর মা ঝুমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, দুপুরের খাওয়া শেষে ঘুম থেকে উঠতে দেখেন, তার স্বামী শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর তার নিজের গলা কাটছে। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের মানুষজন এসে হতাহতদের উদ্ধার করে।

নিহত শিশুর খালা নাজমা বেগম ও মামা টিপু মিয়া বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। যখন তাদের বোন ফোনে চিৎকার দিয়ে বলে, তার মেয়েকে জবাই করে স্বামীও নিজের গলা কাটতেছে। তিনি স্বামীকে থামিয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক কান গলা বিভাগের প্রধান ডা. নুরুল হুদা নাঈম বলেন, আতিকুর রহমানের গলার আঘাত বেশ বড়। তার শ্বাসনালি অনেকটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচার শেষে তিনি এখন পর্যবেক্ষণে আছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.