নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৬ জুন, ২০২৫
সিলেটে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা হলে প্রবেশ করার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সিলেট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এ জেড এম মাঈনুল হোসেন।
দণ্ড পাওয়া মোছা. তাহমিনা আক্তার সিলেটের মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় দুটি পত্রে একই রোল নম্বর ও তথ্য পাওয়া যায়। দুজনই নিজেদের মদন মোহন কলেজের শিক্ষার্থী বলে দাবি করেন।
যাচাই-বাছাই শেষে ফয়জিয়া আক্তারকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়, আর জাল প্রবেশপত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করায় অন্য শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তারকে পুলিশে দেওয়া হয়।
জাল প্রবেশপত্র নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তাহমিনা বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি দিতে না পারায় আমার ভাই এক দালালের মাধ্যমে বোর্ডে টাকা জমা দেন। পরে সেখান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কেন্দ্রে এসে বুঝতে পারি; সেটি জাল ছিল। আমি কিছুই জানতাম না, সবকিছু আমার ভাই করেছে। এখন তিনি হাসপাতালে ভর্তি’।
এ ঘটনায় সিলেট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম মাহমুদ আশিক কবির ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাহমিনাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ মাঈনুল হোসেন।
সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৮৮টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার প্রথম দিন ৮২৪ জন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট বোর্ডের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিলেট জেলায় ৩২৩, হবিগঞ্জ জেলায় ১৪৩, মৌলভীবাজার জেলায় ১৫৩ এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে ২০২ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। সিলেট বোর্ডের অধীনে সব কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনও পরীক্ষার্থী বা পরীক্ষক অসদুপায় অবলম্বনে বহিষ্কার হননি বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।