Sylhet Today 24 PRINT

থমকে আছে বাউল বশিরের কণ্ঠ

অর্থের অভাবে পাচ্ছেন না চিকিৎসা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৫ জুলাই, ২০২৫

অসুস্থ বাউল বশির উদ্দিন সরকার। ইনসেটে তার সুস্থ অবস্থার ছবি।

বিছানায় শুয়ে শুয়েই কিছু্ একটা বলার চেষ্টা করলেন বশির উদ্দিন। মুখ থেকে কিছু শব্দ বের হলো বটে, কিন্তু কিছুই বোঝা গেলো না। গোঙানি মতো শব্দ। সব কথা মুখেই জড়িয়ে যাচ্ছে। কয়েকবার চেষ্টা করেও কিছু বুঝাতে না পেরে শিশুর মতো কেঁদে উঠলেন তিনি।

এখন এমনই অবস্থা বাউল শিল্পী বশির উদ্দিন সরকারের। কিছুদিন আগেও নিজের কণ্ঠের যাদুতে মাতিয়ে রাখতেন দর্শক-শ্রোতাদের, তার কণ্ঠই এখন থকমে আছে। বিছানাই এন তার সঙ্গী। আর সঙ্গী স্ত্রী রোকেয়া বেগম।

অসুস্থ স্বামীর পাশে সবসময় থেকে থেকে তার জড়িয়ে যাওয়া কথা চোখের ইশারা আর অঙ্গভঙ্গিতে কিছু কিছু বুঝতে শুরু করেছেন রোকেয়া বেগম। ফলে বশির উদ্দিন বরাবরার চেষ্টা করেও যে কথা বুঝাতে ব্যর্থ হচ্ছেনম তা বুঝিয়ে দিলেন স্ত্রী।

রোকেয়া বেগম বলেন, ‘‘বশির উদ্দিন বলতে চাচ্ছেন, ‘নিজের লেখা কয়েকটি বই ছাড়া আর কোন সম্পাদ নেই তার। এখন চিকিৎসা করাবেন কিভাবে’?’’

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার দামোধরতপী এলাকার গুচ্ছগ্রামের সরকারের আশ্র্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে পাওয়া ছোট্ট একটি ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন বশির উদ্দিন। বলা ভালো অসুস্থ বশির উদ্দিনকে নিয়ে থাকেন স্ত্রী রোকেয়া। তারও বয়স হয়েছে। আয়ের কোন উৎসও নেই। তারউপর স্বামীর চিকিৎসা-ওষুধ সামলাতে হচ্ছে তাকে।

গুচ্ছগ্রামের ওই বাড়িতে গিয়েই বাউল বশির উদ্দিনের করুণ দৃশ্যের দেখা মিলে। একসময় কন্ঠে আর বেহালায় যিনি সুর তুলতেন, সুরে মাতিয়ে রাখতেন পুরো সিলেট অঞ্চলের মানুষদের। আজ তার নিজের জীবনটাই সুরহীনতায় ঘেরা। স্ট্রোক করে এখন বিছানায়ই বন্দি তার জীবন। হাঁটাচলা করতে পারেন না। এমনকি কথাও বলতে পারেন না।

পরিবার নিয়ে সিলেটের থাকতেন বশির উদ্দিন। বাচ্চা-কাচ্চা নেই। স্বামী-স্ত্রীর টুনাটুনির সংসার। স্বচ্ছলতা তেমন ছিলো না যদিও তবে সুখেই ছিলেন তারা। তবে বছর দুয়েক আগে বশির উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে উধাও হয়ে যায় সেই সুখ।

স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানান, অসুস্থ হওয়ার পর কিছুদিন ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বশির উদ্দিন। এরপর সুনামগঞ্জে চলে আসেন। সিলেটে থাকার মতো আর্থিক সঙ্গতি নেই। এমনকি অর্থভাবে স্বামীর চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

প্রখ্যাত বাউল কফিল উদ্দিন সরকারের কাছে সঙ্গীতের দীক্ষা নেওয়া বশির উদ্দিন বাউল শাহ আব্দুল করিমেরও স্নেহধন্য।

তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, যে বেহালায় সুর তলিতেন বশির উদ্নি, সেটি এখন বাক্সবন্দি হয়ে পড়ে আছে। ঘরের ছাদের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা তবলা। বশির উদ্দিনের জীবনের মতোই ধুলোময়, মলিন।

অজস্ত্র গান বুকভরা সুরে গেয়ে গেছেন পুরোটা জীবন, গানের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন মানবতা, প্রেম আর সত্যের কথা। লিখেছেন ৪ টি বই। গুরু করিমকে নিবেদিত ‘গুরুচরণে নিবেদন’ ছাড়াও তার লেখা বইয়ের মথ্যে রয়েছে- ‘প্রেমের তরী’, ‘প্রেমসাগরে’ ত্যিাদি। এখন গান, লেখালেখি সব বন্ধ। এখন কেবল বেঁচে থাকার লড়াই। তাও পারছেন কই? তার জন্যও তো টাকার প্রয়োজন। টাকা পাবেন কোথায় এই বাউল?

রোকেয়া বেগমেরও বয়স হয়েছে। তবু তবু স্বামীর দুঃসময়ে শুশ্রূষার কাজ করে যাচ্ছেন।

রোকেয়া বেগম বলেন, আমার তো আয় রোজগার নেই। তারও কোন সঞ্চয় নেই। আর্থিক অনটনের কারণে স্বামীকে ঠিকমত চিকিৎসা করাতে পারছি না।

সুনামগঞ্জেরই আরেক বাউল লাল শাহ্। অসুস্থ বাউল বশির উদ্দিনের খোঁজখবর নেন নিয়মিত। তিনি বলেন, সবাই মিলে কিছু কিছু সহযোগিতা করলেই বশির উদ্দিনের চিকিৎসা করানো সম্ভব। সবার সহযোগিতায় হয়তো আবার সুস্থ হয়ে উঠবেন এই শিল্পী। আবার গান গাইবেন মঞ্চে।

গুণী এই শিল্পীর দুর্দিনে সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন আপনিও৷ আপনার সহায়তা, সামাজিক সহানুভূতি ও ভালোবাসায় হয়তো আবার প্রাণ ফিরে পাবে একটি সুরভরা জীবন৷

বশির উদ্দিনকে সাহায্য পাঠাতে পারেন তার বিকাশ নাম্বারে। বিকাশ নং- ০১৭১২২৮৩৪৩৫।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.