Sylhet Today 24 PRINT

পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতিতে অচল সিলেট, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ`

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৮ জুলাই, ২০২৫

পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ ৬ দফা দাবিতে সিলেটে চলছে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতি। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতিতে বন্ধ রয়েছে বাস-ট্রাকসহ বেশিরভাগ পরিবহন। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচী ঘোষণা করে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতি এবং সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনে বিভিন্ন বাস কাউন্টারের সামনে জড়ো হয়ে আছেন যাত্রীরা। তবে কোন বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। অনেকে ছোট শিশু নিয়ে এসেও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় রয়েছেন।

মেজরটিলা এলাকা থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার জন্য ছোট শিশুকে নিয়ে বাস টার্মিনালে এসেছিলেন সায়মা আক্তার। তিনি বলেন, আমার মা অসুস্থ। তাই বাচ্চাকে নিয়ে হবিগঞ্জ যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনাল এসেছিলাম। কিন্তু সকাল থেকে অপেক্ষা করেও কোন গাড়ি পাচ্ছি না। প্রাইভেটকার পেলেও অনেক বেশি ভাড়া চাচ্ছে।

নগরের হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায় গিয়েও দেখা যায়, সড়কে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন অনেক যাত্রী।

গাড়ির জন্যে অপেক্ষমান থাকা বৃদ্ধ মতিউর রহমান বলেন, শেরপুর যাওয়ার জন্য এসেছিলাম। প্রায় তিন ঘন্টা ধরে অপেক্ষায় আছি। কিন্তু কোন গাড়ি পাচ্ছি না। মাঝেমাঝে দুএকটা গাড়ি আসলেও অন্য পরিবহন শ্রমিকরা যাত্রী তুলতে দিচ্ছে না।

ধর্মঘটে সড়কে কিছু অটোরিকশা, রিকশা ও মাইক্রোবাস চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে এসব চলাচলেও পরিবহন শ্রমিকরা বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, এদিকে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ শ্রমিক কর্মবিরতি প্রত্যাখান করে বাস চালু রাখার ঘোষনা দিলেও বেলা ১ টা পর্যন্ত কোন বাস চলাচল করতে দেখা যায়নি। লোকমান অনুসারীদেরও রাস্তায় দেখা যায়নি। তবে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

এদিকে, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। তাই শ্রমিকদের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে আজকের মধ্যেই এই বৈঠক হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন বলেন, বিভাগীয় কমিশনারের উদোগে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে আমাদের সাথে একটি বৈঠক হতে পারে বলে শুনেছি। তবে এখনও আনুষ্টানিক কিছু জানানো হয়নি। এরকম কোন বৈঠক আয়োজন হলে অবশ্যই আমরা সেখানে যাবো। বৈঠকে দাবি পুরণ হলে কর্মসূচী স্থগিত করা হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দবিগুলো হলো- তাদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান ২৫ বছর, সিএনজি ও ইমা লেগুনা এর ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা, সিলেটের সকল পাথর কোয়ারীর ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক সকল গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণ পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের উপর আরোপিত বার্ধিত টেক্স প্রত্যাহার করা, সিলেটের সকল ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন বন্ধ, বিদ্যুৎ মিটার ফেরত ও ভাংচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর ও বালুর ক্ষতি পূরণ দেওয়া, সিলেটের পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে অবিলম্বে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা ও সড়কে বালু ও পাথরবাহী গাড়িসহ সকল ধরনের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানী বন্ধ করা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.