Sylhet Today 24 PRINT

‘অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি’ ৭ ঘন্টা পরই স্থগিত, যা বলছেন পরিবহন শ্রমিক নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৮ জুলাই, ২০২৫

ধর্মঘট চলাকালে একটি ট্রাক আটকে দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

৬ দফা দাবিতে সিলেটে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। এতে মঙ্গলবার সকাল থেকে সিলেটে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।

তবে কর্মবিরতি শুরুর ৭ ঘন্টা পর মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করেই তা ‘আপাতত স্থগিতের’ ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।  

যদিও সোমবার সন্ধ্যায় কর্মবিরতি ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে এই একই শ্রমিক নেতা বলেছিলেন, দাবি পুরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

পরীক্ষার্থী, বিদেশযাত্রীদের সুবিধার্থে এবং পুলিশ ও প্রশাসনের অনুরোধে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতি এবং সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বানে মঙ্গলবার সকাল ৬ টা থেকে শুরু হয় পরিবহন শ্রমিকদের এই কর্মবিরতি।

বেলা ১ টার দিকে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক কর্মবিরতি ‘আপাতত’ স্থগিতের ঘোষণা দেন।

এসময় তিনি বলেন, ৬ দফা দাবিতে আমরা কর্মবিরতি ঘোষণা দিয়েছিলাম। তবে আমাদের কেন্দ্রিয় সড়ক মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং সিলেটের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কর্মবিরতি স্থগিতের সুপারিশ করছেন। এছাড়া প্রশাসন, বিশেষত সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার তার প্রতিনিধি পাঠিয়ে অনুরোধ করেছেন এবং বিভাগীয় কমিশনার বিকেলে বৈঠক ডেকেছেন। তাই পরীক্ষার্থীসহ বিদেশযাত্রী ও সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে আমরা আপাতত আমাদের কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করলাম। পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনারের সাথে বৈঠকের পরে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো।

এরআগে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন সিলেটটুডেকে বলেছিলেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সাবেক কিছু জনপ্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে আমরা আমাদের দাবি জানাবো। দাবি পুরণের আশ্বাস পেলে কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নেবো।

জানা যায়, সিলেটের পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ কয়েকটি দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন পাথরসিশ্লিস্টরা। নিজেদের কিছু দাবি দাওয়া সংযুক্ত করে এই আন্দোলনে শরীক হন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরাও।

গত ২ জুন পাথর সংশ্লিস্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠকে বসেন সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে আরিফুল হক উপস্থিত ছিলেন না। তাকে সে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসকের ওই বৈঠক চালাকালীন সময়েই  শ্রমিক-মালিকদের একটি অংশকে নিয়ে কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। সে সমাবেশ থেকে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার ও পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
 
ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকরা ৫ জুলাই থেকে পণ্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেন। আর মঙ্গলবার থেকে সব ধরণের পরিবহন শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন।

যদিও রোববার রাতে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভা শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও জামায়াত নেতা পরিবহন শ্রমিকদের এই কর্মবিরতি প্রত্যাখ্যান করে গাড়ি চলবে বলে ঘোষণা দেন।

ওইদিন তিনি সাবেক সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনি পরিবহন সেক্টরে এসে বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্ত দিয়ে যেন অস্থিরতা সৃষ্টি না করেন। যদি আপনার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কোনো বিরোধ থাকে, তা হলে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বসে সমাধানে আসুন।”

এরপর সোমবার সন্ধ্যায় জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতি এবং সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরুর ঘোষণা দেন। এসময় এই দুই সংগঠনের নেতারা ‘লোকমান আহমদকে চিনেন না, তিনি পরিবহন মালি সমিতির কোন নেতা নন’ বলে মন্তব্য করেন।

আর ধর্মঘট শুরুর ৭ ঘন্টা পর দুপুর একটার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ বাস-মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম।

এদিকে বেলা সাড়ে ৩ টায় পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের সাথে বৈঠকে বসেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। বৈঠকে আরিফুল হক চৌধুরীও অংশ নিয়েছেন।

সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দবিগুলো হলো- তাদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ ধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বাস-মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান ২৫ বছর, সিএনজি ও ইমা লেগুনা এর ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা, সিলেটের সকল পাথর কোয়ারীর ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়া, বিআরটিএ কর্তৃক সকল গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণ পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের উপর আরোপিত বার্ধিত টেক্স প্রত্যাহার করা, সিলেটের সকল ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন বন্ধ, বিদ্যুৎ মিটার ফেরত ও ভাংচুরকৃত মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর ও বালুর ক্ষতি পূরণ দেওয়া, সিলেটের পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ও ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে অবিলম্বে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা ও সড়কে বালু ও পাথরবাহী গাড়িসহ সকল ধরনের পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের হয়রানী বন্ধ করা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.