সিলেটটুডে ডেস্ক | ২১ জুলাই, ২০২৫
সিলেটে শ্রমিক দলের এক সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বিচার শেষ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারবেন না।’
বিএনপির সমালোচকদের উদ্দেশ করে আরিফুল হক আরও বলেন, বিএনপি ও জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তা দেখে একটি কুচক্রী মহল ভিত্তিহীন অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। চক্রটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে। তারা দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণের প্রতিনিধির মাধ্যমে দেশ উন্নয়নের পথে পরিচালিত হোক, তা চায় না। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তাই তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
সোমবার বিকেলে সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সিলেট জেলা শ্রমিক দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন আরিফুল হক।
তিনি আরও বলেন, আজকের এই বিক্ষোভ মিছিল প্রমাণ করেছে যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা বাংলাদেশের শ্রমিক-মেহনতি মানুষসহ বাংলার ১৮ কোটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। এই ঐক্যই আমাদের শক্তি। যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদেরকে প্রতিটি থানা, উপজেলা, জেলা এবং প্রতিটি কর্ণারে কর্ণারে প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে আনতে, ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে আমাদের শক্ত অবস্থান নিতে হবে। তারেক রহমান আমাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছেন।
সিলেট জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমদ চৌধুরী।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, দেশের মানুষ বিগত ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, একজনের ভোট অন্যজন দিয়েছে, কবর থেকে মৃত মানুষও উঠে এসে ভোট দিয়েছে, সর্বোপরি মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, মানুষের বাক্স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। পুরো রাষ্ট্রের মেরুদণ্ডকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হলেও মানুষ নিজেদের কাঙ্ক্ষিত অধিকার এখনো ফিরে পায়নি বলে দাবি করেন মিফতাহ্ সিদ্দিকী।
যে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এই দীর্ঘ সংগ্রাম হলো, তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে মিফতাহ্ বলেন, দেশ যখন নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই একটি মহল বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যু সামনে এনে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের নামে অপপ্রচার শুরু করেছে। যারা এসব করছে, তারা প্রকৃতপক্ষে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা চায় না, দেশের জনগণের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই, তারা বিকল্প পথে ক্ষমতার স্বাদ নিতে চায়। তাই তাদের ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে হবে।