শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ০৯ আগস্ট, ২০২৫
"আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সার্থক প্রয়োগ' এ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপন।
নানান রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর সমবেত হতে থাকেন একটি মিলনায়তনের সামনে। তাঁরা সবাই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। তাঁরা এসেছেন খাসিয়া পুঞ্জি, ত্রিপুরা পল্লী ও চা-বাগান থেকে।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে তাঁরা জড়ো হয়েছিলেন মৌলভীবাজার জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখা দিবসটি উদ্যাপনের আয়োজন করে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিস। পরে বিভিন্ন দাবি সংবলিত ফেস্টুনসহ শহরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের কোর্ট রোড হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পকলা একাডেমিতে ফিরে আসে।
এরপর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ফোরাম মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি ফ্লোরা বাবলী তালাং। আদিবাসী নেতা মনিকা খংলা ও লেনচার তংপের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আদিবাসী ফোরামের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জনক দেববর্মা।
অতিথি ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) আহ্বায়ক ফাদার যোষেফ গোমেজ ও সদস্যসচিব শরীফ জামিল, হাওর রক্ষায় আমরা ও ধরার সিলেট সমন্বয়ক তোফাজ্জল সোহেল, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী অধিকার সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, বাসদের মৌলভীবাজার জেলা শাখার সমন্বয়ক মইনুর রহমান, বাপার মৌলভীবাজারের প্রতিনিধি আ স ম সালেহ প্রমুখ। এ ছাড়া খাসি, গারো, মণিপুরি, ত্রিপুরা, ওঁরাও, ভূমিজ, কন্দ, গঞ্জু, তেলি, তাঁতি, কৈরি, সাঁওতাল, বাড়াইক, মুন্ডা, কুর্মিসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, সমাজের সব স্তরে বৈষম্য আছে। আদিবাসী-বাঙালি মিলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করতে হবে। আদিবাসী দিবস উৎসবের দিন হওয়ার কথা। কিন্তু এদিন ভূমিসহ নানা সমস্যার কথা বলতে হচ্ছে। আদিবাসীদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ভূমিসহ সব সমস্যার সমাধান হওয়া দরকার।
বক্তারা আরও বলেন, আদিবাসীরা বিভিন্ন দিকে পিছিয়ে আছে। এ থেকে অগ্রসর হতে হলে শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবেই এগিয়ে যেতে পারবেন তাঁরা। আদিবাসীদের সন্তানেরা আর্থিক কারণে উচ্চশিক্ষা নিতে পারছেন না। আদিবাসীদের ভাষা-সংস্কৃতি বিপন্ন এখন। ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমের সহযোগিতা লাগবে। অধিকার আদায়ে নিজেদের জাগতে হবে, অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আদিবাসীরা অনেক সমস্যায় জর্জরিত। সবাই একত্র না হলে অধিকার আদায় সম্ভব হবে না। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।