সিলেটটুডে ডেস্ক | ০৯ আগস্ট, ২০২৫
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এথনিক কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (একডো) এবং স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী চা-শ্রমিক, পাত্র ও মনিপুরী জনগোষ্ঠীর যৌথ অংশগ্রহণে শনিবার দুপুরে হিলুয়াছড়া চা-বাগানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে।
এবারের আদিবাসী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, ‘আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বার্থক প্রয়োগ’।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা একডো’র নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকারকর্মী লক্ষ্মীকান্ত সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, যেখানে এখনও আদিবাসী শিশুরা তাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়া নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না সেখানে আদিাবসীদের পক্ষে কিভাবে তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্বার্থক প্রয়োগ সম্ভব! তাই বক্তারা দেশের সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং তাদের সংস্কৃতিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণের জোর দাবি জানানো হয়। তাছাড়া দেশের সংবিধানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে এখনো স্বীকৃতি না দেয়ায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আগামীতে যে সরকারই দেশের ক্ষমতায় আসুক এদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে দেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানানো হয়। সভায় বক্তারা দেশের চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বর্তমান দৈনিক মজুরী মাত্র একশত আটাত্তর টাকা হওয়াকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করে শীঘ্রই এদেশের চা-শ্রমিকদের একটি যৌক্তিক নতুন মজুরী কাঠামো গঠনের জোর দাবি করা হয়। তাছাড়া চা-শ্রমিক নারীরা যেখানে কাজ করেন সেখানে যথাযথভাবে পানীয়জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখারও জোর দাবি করা হয়। বক্তারা দেশের সকল অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিশুরা যাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজ নিজ মাতৃভাষায় লেখাপড়া করতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় আদিবাসী নেতা ও টুকের বাজার ইউপি সদস্য দিলীপ রঞ্জন কুর্মী, রাধামনি মুন্ডা, জানকী কালিন্দি, শুকন্তলা মাল, গীতা মুন্ডা, মৌমিতা পাত্র, শ্যামলী পাত্র, কার্তিক বৈদ্য প্রমূখ।
দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় আদিবাসী নারীপুরুষদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক এ দিবসটি উদযাপন করা হয়।