Sylhet Today 24 PRINT

সিলেটে পাওনা টাকা না দিয়ে কন্ট্রাক্টরকে হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৯ আগস্ট, ২০২৫

সিলেটে পাওনা ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আদায় না করে উল্টো পাওনাদার কন্ট্রাক্টরকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একটি ৫তলা ভবনের ওই পাওনা আদায় না করেই ভবনটির নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মালিকপক্ষ। আর জীবনের নিরাপত্তার জন্য সালিশান, থানাপুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন পাওনাদার কন্ট্রাক্টর রাসেল আহমদ।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্টিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৬নং ওয়ার্ডের বালুচর নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা কন্ট্রাক্টর রাসেল আহমদ।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বসন্তপুর গ্রামের মৃত রমিজ উল্লাহ ও আসিফুল নেছা খাতুনের ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবুল বাসার সিলেট মহানগরীর ১০নং ওয়ার্ডের শামীমাবাদের ৫নং গলির ২২২নং বাসার পাশের নির্মানাধিন ৫তলা ভবনের মালিক। ওই ভবন নির্মাণের জন্য তার প্রতিনিধি ও শ্যালক সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দেওকলসের জগথপুর গ্রামের মো. মোজাম্মেল ওরফে তোতা মিয়ার ছেলে ইউরাজ মিয়ার সাথে ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর চুক্তি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী কাজ ও লেনদেন চলছিল। তবে গত বছরের শেষের দিকে আবুল বাসার টাকা পয়সা দিচ্ছেন না জানিয়ে ইউরাজ কাজ শ্লো করে দেন। এরমধ্যে আবুল বাসার দেশে ফিরে টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিরবে আবার লন্ডন ফিরে যান। রাসেলের সাথে তার দেখা বা সাক্ষাত হয়নি। লন্ডন ফিরে থেকে ফোনে কাজের বিস্তারিত জানতে চাইলে তারা জানান, টাকা না দেওয়ায় কাজ শ্লো গতিতে চলছে। তখন আবার বাসার জানান যে তিন কোটি ২৪ লাখ টাকা ইউরাজকে দেওয়া হয়েছে। তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং রোজার পরে দেশে ফিরে টাকা পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু আবারও দেশে ফিরে তাদের সাথে দেখা না করে বা টাকা না দিয়েই তিনি লন্ডন ফিরে যান।

পরে দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে আবুল বাসারের এক পুত্রা ধোপাদিঘীর পূর্বপারের আনন্দ টাওয়ারের আল-ইহসান ট্রাভেলসের কর্মকর্তা সোহেলের। তিনি বাসারের সাথে নিজেকেও বাসার মালিক দাবি করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তখন রাসেল নিজেরসহ তার দায়িত্বে অন্যান্য খাতের পাওনা বাবদ মোট ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু সোহেল এতে কর্নপাত করেন নি। ইউরাজ ও সোহেল মিলে রাসেলকে বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দেন। এতে ভীত হয়ে রাসেল শামীমাবাদ এলাকার নেতৃস্থানীয় মুরব্বিদের বিষয়টি অবগত  ও সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু সোহেল বা ইউরাজের অসহযোগীতায় তা আর সম্ভব হয়নি। পরে তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী থানায় গত ৭ জুলাই একটি অভিযোগ দিলেও কাংখিত কোনো ফল পাননি।

রাসেল জানান, ধার-কর্য করে তিনি বিনিয়োগ করে এখন নিঃস্ব রিক্ত। এ অবস্থায় তার জীবনের নিরাপত্তার জন্য সিলেটের পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। আর ইউরাজ সোহেল ও আবুল বাসারের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে তার পাওনা পরিশোধ না করলে তিনি আদালতের মাধ্যমে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

এ ব্যাপারে আলাপকালে ইউরাজ ও সোহেল মিয়া তাদের বিরুদ্ধে তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে শামীমাবাদ এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং রাসেলের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.