নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জ এলাকার এক আতঙ্কের নাম রিয়াজুল ইসলাম। যিনি ‘শুটার রিয়াজ’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।
সিলেটের জাফলংয়ে বেড়াতে এসে বুধবার কাকতালীয়ভাবে গ্রেপ্তার হন এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। এরআগে ২০২২ সালের এপ্রিলে আরেকবার র্যাবের হাতে চার সহযোগিসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, ১২ রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজের নেতৃত্বে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতো তার বাহিনী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি, বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন থানায় ১৫ টি মামলা ও বেশ কয়েকটি জিডি রয়েছে।
শুটার রিয়াজের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও ও তার আশপাশ এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করা হতো বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা ।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ই মার্চ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শফিক ও শামীম মল্লিক নামে দুই ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়। গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রূপগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুতকে গুলি করা হয়। এ ছাড়াও ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর রূপগঞ্জ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়। উক্ত ঘটনাগুলো এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অবৈধ জমি দখলকে কেন্দ্র করে রিয়াজ বাহিনীর প্রধান শুটার রিয়াজের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে বলে জানায় র্যাব।
যেভাবে গ্রেপ্তার: সিলেটের জাফলং বেড়াতে এসেছিলেন রিয়াজুল ইসলাম ওরফে শুটার রিয়াজ। পুলিশের চেকপোস্টে সিগন্যাল না মেনে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা দুই শিশু-সন্তানকে গাড়িতে রেখে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তাঁকে ধাওয়া করেন। প্রথমে তাঁকে শিশু অপরহরণকারী মনে করছিলেন স্থানীয়রা। আটকের পর তাঁর পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।
গোয়াইনঘাট থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, রিয়াজ তাঁর দুই সন্তান নিয়ে জাফলং বেড়াতে গিয়েছিলেন। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে আলীরগাঁও ইউনিয়নের আলীরগাঁও এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টে সিগন্যাল দেয়। রিয়াজ তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে দুই শিশুসন্তান রেখে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে ধাওয়া করে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর পরিচয় জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, একটি বাড়ির সামনে আটকের সময় রিয়াজকে মারধর করা হয়। গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী জানান, তিনি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। উত্তেজিত জনতার কবল থেকে তাঁকে রক্ষা করে পুলিশে দেওয়া হয়। প্রথমে তারা পালানোর ঘটনায় অন্য কোনো কাহিনি বলে মনে করছিলেন।
গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ থানায় তাঁকে আটকের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। সেখানকার পুলিশ এলে হস্তান্তর করা হবে। শিশু দুটি তাদের জিম্মায় রয়েছে।