Sylhet Today 24 PRINT

মাওলানা মুশতাক হত্যা: জমিয়ত নেতা হাফিজকে রিমাণ্ডে চায় পুলিশ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি |  ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সুনামগঞ্জে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলা জমিয়তের সহ সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মুশতাক আহমদ গাজীনগরী (৫২) নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্দুল হাফিজ (৪০) কে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

আদালতে হাফিজের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার এই রিমান্ড শুনানি হবে।

আব্দুল হাফিজ নিহত মুশতাক আহমদের গ্রাম গাজীনগরের পার্শ্ববর্তী দরগাপুর গ্রামের আলিফ পাঠানের ছেলে এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর অন্য গ্রুপের শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

রবিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মাওলানা মুশতাক আহমদের স্ত্রী রুবি বেগম বাদী হয়ে দিরাই থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে সিলেটে শহর থেকে আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করে দিরাই থানা পুলিশ।

সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিন টায় আব্দুল হাফিজ (৪০) কে কঠোর নিরাপত্তায় দিরাই জোনের আমলগ্রহণকারী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালতের বিচারক এসএম শাফায়াত ছালাম বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে আব্দুল হাফিজের ফাঁসির দাবিতে মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ করেছেন। এসময় বিক্ষুব্দ নেতাকর্মীরা আব্দুল হাফিজের দিকে ডিম ছুড়ে মারে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মাওলানা মুস্তাক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং আব্দুল হাফিজকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে ৭ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করা হয়েছে। ’

পুলিশের সুনামগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মো. আকবর হোসেন বলেন, মাওলানা মুস্তাক আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে ৭ দিনের রিমাণ্ডের আবেদন করেছেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রিমাণ্ড শুনানীর দিন ধার্য করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরে যাওয়ার কথা বলে নিজ বাড়ি গাজীনগর থেকে বের হন মাওলানা মুশতাক। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দিরাই রোড পয়েন্টে বনফুল মিষ্টির দোকানের সিসি ক্যামেরায় তাকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর রাত সাড়ে ১১টায় একই স্থানের আরেকটি দোকানের সিসি ক্যামেরায় আবারও তার উপস্থিতি ধরা পড়ে। রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

তবে নিখোঁজের ৫৮ ঘণ্টা পর ৫ সেপ্টেম্বর সকালে দিরাই উপজেলার শরীফপুর গ্রামের ইটভাটার পাশে পুরাতন সুরমা নদীতে স্থানীয়রা তার লাশ ভাসতে দেখে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ নদী থেকে লাশ উদ্ধার করে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.