নবীগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ- ১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন ১০ বিএনপি নেতা। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে চমক দেখিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া।
এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গত ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন ড. রেজা কিবরিয়া। দলে যোগ দেওয়ার তৃতীয় দিনেই নির্বাচনী টিকিট পেলেন তিনি। রেজা কিবরিয়া ১৮ সালের নির্বাচনের পর আর এলাকায় আসেননি। বুধবার এলাকায় এসে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় এক দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তিনি। পরদিন মনোনয়ন পেয়ে চমক দেখালেন।
রেজা কিবরিয়া মনোনয়ন পাওয়ায় নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা বিএনপির মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। তাঁর মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা ও বাহুবল উপজেলা বিএনপি নেতিাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা
নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা ও সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান মজিদ বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রীয় সিন্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, সেটা মেনেই আমরা মাঠে কাজ করব।’
বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী তুষার ও সাধারণ সম্পাদক হাজি শামসুল আলম বলেন, ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি হচ্ছেন একজন আন্তর্জাতিক মানের ব্যক্তিত্ব, তাঁকে পেয়ে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুখলিছুর রহমান বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে দলের জন্য কাজ করেছি। এলাকায় প্রচারণা করেছি। এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান যে সিন্ধান্ত নিয়েছেন, সেটা মেনেই কাজ করতে হবে। আমি নবীগঞ্জ ও বাহুবলবাসীর পাশে থেকে দলের জন্য ও দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করব।’
তবে বিএনপির অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক পৌর মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, দলীয় মনোনয়ন তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।
মনোনয়ন পাওয়ায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, তিনি নবীগঞ্জ ও বাহুবলকে স্বপ্নের মতো গড়ে তুলতে চান। সবাই অবাক হয়ে দেখবে, দেশের মধ্যে নবীগঞ্জ ও বাহুবল হবে একটি মডেল উপজেলা। যে স্বপ্ন তাঁর বাবা দেখতেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি ৩৫টি দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। এখন শেষ বয়সে আমার দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার দাদাবাড়ি নবীগঞ্জে, দাদিবাড়ি বাহুবল, এখানে আমার নাড়ির টান রয়েছে।’