বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি | ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
বিয়ানীবাজারের বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গোলাম মুস্তাফা মুন্নার সঙ্গে উপেজলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা সাক্ষাৎ করেছেন। এই চেয়ারম্যানদের অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে জুলাই হত্যা মামলা, এবং তাদের সবাই রয়েছেন জামিনে।
এদিকে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বিদায়ী ইউএনওর সাক্ষাতের ছবি তোলা নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রবিবার দুপুর থেকে এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, বিয়ানীবাজারের উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মুস্তাফা মুন্নাকে সম্প্রতি বদলি করা হয়েছে। রবিবার ছিল বিয়ানীবাজারে তার শেষ কর্মদিবস। এদিন দুপুরে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা, যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নির্বাচিত। এই চেয়ারম্যানদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে রয়েছে জুলাই হত্যামামলা।
এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনে শহীদ সাংবাদিক আবু তাহের মো: তুরাবের ভাই আবু জাফর বলেন, প্রশাসনে থাকা এমন দোসরদের কারনে জুলাই শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে। পলাতক আসামিরা কেমন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে সাক্ষাৎ করে ফটোশেসন করে?
হেফাজতে ইসলামের একাংশের বিয়ানীবাজারের সভাপতি মুফতি আব্দুল কারীম হাক্কানী বলেন, যে আসামিরা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকে, তারা আবার ব্যক্তিগত কাজে উপজেলা প্রশাসনে ঘুরাফেরা করে। তারমানে, তারা অভ্যুত্থানে পাওয়া সরকারকে অসহযোগিতা করছে।
জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ ময়নুল হোসেনের স্ত্রী শিরিন বেগম বলেন, আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে আর পুলিশ বলছে তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। এ কেমন আইন বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলী জানান, আসামিরা উপজেলা প্রশাসনে এসেছিল বলে তাদের কাছে কোন তথ্য নেই।
বিয়ানীবাজার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পরবর্তী তিনটি হত্যাসহ মোট ৪টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় মাথিউরা ইউপি চেয়ারম্যান মো: আমান উদ্দিন কারাগারে থাকায় তাকে বরখাস্ত করেছে মন্ত্রনালয়। অপর ইউপি চেয়ারম্যানরা জামিনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে বিদায়ী ইউএনও গোলাম মুস্তাফা মুন্না জানান, আসামি হিসেবে তারা আসেননি। সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন।
এদিকে, চেয়ারম্যানদের সবাই দাবি করেছেন, কেবল আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তাদের হত্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।