Sylhet Today 24 PRINT

সিলেট থেকে চুরি হওয়া দামি মোবাইল ফোন যায় ভারতে

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

সিলেট নগরীতে চুরি হওয়া দামি মোবাইল ফোনসেট দেশের বাইরে পাচার হয়ে যায়। যার বেশির ভাগই চলে যায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে। আর সেটি করা হয় প্রযুক্তিগত কারচুপির জন্য। এর পর আবার সেই সেট দেশে ঢোকে। বিক্রি হয় চড়া দামে। মোবাইল সেট চুরি ও ছিনতাই সিন্ডিকেটের নানা বিষয় অনুসন্ধানকালে সম্প্রতি এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্র জানায়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই যে কোনো মোবাইলের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করতে পারে তারা। আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন হয়ে ফের চুরি হওয়া মোবাইল সেট চলে আসে দেশে। নিয়মিত এই অপরাধ চালিয়ে যাওয়া একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রের তিন সদস্যকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৪২২টি চোরাই মোবাইল সেট।

বেশ কিছুদিন ধরে সিলেটে দামি ও আধুনিক স্মার্ট মোবাইল ফোন সেট চুরি বেড়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে চোর চক্রের সন্ধানে বিশেষ তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় প্রতিদিনই নগরী ও আশপাশের এলাকায় কারও না কারও মোবাইল সেট চুরির অভিযোগ আসছিল।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, এসব চোরাই মোবাইল ফোনের দুটি নির্দিষ্ট আড়ত হলো বন্দরবাজারের সিটি হার্ট শপিং সেন্টার ও করিম উল্লাহ মার্কেট। দুটি মার্কেটেই দীর্ঘদিন ধরে চোরাই মোবাইল সেট বেচাকেনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে পুলিশ জানায়।

বৃহস্পতিবার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আটক করা হয় মো. সুজ্জাত নামে এক যুবককে। তাঁর কাছ থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ৩৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

একই দিন ভোরে নগর গোয়েন্দা পুলিশের আরেকটি দল দক্ষিণ সুরমা থানার শিববাড়ী জৈনপুর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মো. আব্দুস শহিদ এবং তাঁর ভাতিজা আকরাম আলীকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৬টি মোবাইল ফোন, দুটি পেনড্রাইভ, আটটি স্ক্রু-ড্রাইভার এবং একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়। আটক আব্দুস শহিদের বিরুদ্ধে এসএমপির বিভিন্ন থানায় খুন, ছিনতাই, চুরি ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে।

আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরবাজারের সিটি হার্ট শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় তোহা টেলিকমে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকান থেকে ২০৪টি বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। যেগুলোর বাজারমূল্য আনুমানিক ২৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। দুপুর ২টায় করিম উল্লাহ মার্কেটের তৃতীয় তলায় স্মার্টফোন গ্যালারিতে অভিযান চালিয়ে একই ধরনের ১৫৪টি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নগরী থেকে চুরি হওয়া দামি মোবাইল ফোনগুলো পাশের দেশ ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে ভারতীয় দালালদের হাত ঘুরে তা চলে যায় প্রযুক্তিরত অন্ধকার জগতের কারিগরদের কাছে। তারা এসব সেটের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে ফের পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশে। বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সেগুলো বাজারে যায়। তুলনামূলক কম দামে ভালো মানের স্মার্ট ফোনের চাহিদা থাকায় সেগুলোর বিক্রিও ভালো হয়। ক্রেতারা নিজের অজান্তে এসব মোবাইল কিনে নিজের তথ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত করছেন।

এর আগে গত বছরের জুনে বন্দরবাজারের করিম উল্লাহ মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ও আইএমইআই পরিবর্তনকারী সরঞ্জামসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব-৯। তখন র‍্যাব জানিয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে চুরি ও ছিনতাই করা দামি ব্র্যান্ডের এসব মোবাইল সেটের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করে তা
আবার বাজারে ছাড়া হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মোবাইল বিভিন্ন অপরাধকাণ্ডে ব্যবহার হয়ে থাকে। সার্ভারে পরিবর্তিত আইএমইআই না থাকায় সেগুলো ট্র্যাক করা কঠিন।

এসএমপির অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চুরি প্রতিরোধে আরও সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সূত্র: সমকাল

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.