হবিগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬
গ্রেপ্তারের ১৫ ঘন্টরে মধ্যেই জামিনে ছাড়া পেয়েছেন হবিগঞ্জের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসান। যিনি ছাতলীগের এক নেতাকে ছাড়াতে গিয়ে পুলিশের সাথে তর্কে জড়িয়ে আলোচনায় আসেন।
রোববার সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক আব্দুল মান্নান ২০০ টাকা মুচলেকা দিয়ে তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে সকাল ৭টায় শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলায় মাহদীকে আদালতে নিয়ে পুলিশ।
মাহদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা জামিনযোগ্য জানিয়ে তার আইনজীবী এম এ মজিদ বলেন, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহদীকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক আব্দুল মান্নান তার জামিন মঞ্জুর করেন।
হবিগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় করা মামলায় মাহদীকে আদালতে তোলা হয়েছিল। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর এলাকা থেকে মাহদীকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। মাহদী হাসানের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সদর মডেল থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। এসময় থানার মুল ফটক বন্ধ থাকায় বাইরে উত্তেজনা দেখা যায়। একপর্যায়ে নানা শ্লোগান দেয় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা। রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানার সামনে সেনা মোতায়েন করা হয়। রাতেই মাহদীর জামিনের উদ্যোগ নেয় পুলিশ। নেওয়া হয় ম্যাজিস্ট্রেটের বাসায়ও। তবে ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় রাতে জামিন হয়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আরিফ তালুকদারের ভাষ্য অনুযায়ী, জামিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাতেই একটি মাইক্রোবাসে করে ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনে যান তিনি ও সংগঠনের মুখপাত্র আশরাফুল ইসলাম সুজনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থাকায় শেষ পর্যন্ত আদালত বসেনি এবং মাহদী হাসানকে মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আরিফ তালুকদার বলেন, “সেন্ট্রাল থেকে আমাদের জানানো হয়েছিল স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহোদয় মাহদীকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শাহবাগের ব্লকেডও তুলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, জাতীয় এই ইস্যুতে আমরা যখন ম্যাজিস্ট্রেটদের বাসায় গেলাম, ওনারা কেউ ন্যূনতম সৌজন্যবোধ দেখাননি বা রেসপন্স করেননি। পরে জেলা জজের প্রতিনিধির মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয়েছে। ওনারা আইনি জটিলতার কথা বলছেন।’
বানিয়াচংয়ের ঘটনা নিয়ে মাহদীর মন্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনা কোনও মামলার বিষয় হতে পারে না, এটি জুলাই প্রক্লেমেশনের অন্তর্ভুক্ত।”
গত বৃহস্পতিবার রাতে জুলাই যোদ্ধা শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক নয়নকে আটক করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার দুপুরে তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় মাহদী হাসানের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এই সরকার গঠন করেছি। আপনি আমাদের প্রশাসনের লোক। আমাদের ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছেন?’ তিনি জানতে চান, ‘কেন তার ভাইকে আটক করা হয়েছে? তারা ভেসে এসেছেন কিনা? উত্তেজিত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’
ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়।
এদিকে শনিবার দুপুরে মাহদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে মাহদী হাসানকে তার বক্তব্য প্রদানের কারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর দপ্তরের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মাহদী হাসান সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
এরপর বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় মাহদী তার বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে ভুলকে ভুল হিসেবে দেখার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।