Sylhet Today 24 PRINT

এবার মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি ও হবিগঞ্জের ওসির প্রত্যাহারের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০৪ জানুয়ারী, ২০২৬

থানায় ঢুকে পুলিশের সাথে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করে গ্রেপ্তার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে শুধু জামিন নয়, নিঃশর্ত মুক্তি প্রদান এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।


রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান ইস্যু পরবর্তী ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির দুটি কর্মসূচি ঘোষণা করে সভাপতি রিফাত রশিদ এসব কথা বলেন।

কর্মসূচীগুলো হলো- জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যেসব থানা এলাকায় ছাত্র–জনতা শহীদ হয়েছেন, সেসব থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) তালিকা তৈরি। এর পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তালিকাও কররা হবে। এই তালিকা করার পর তাদের নাম ধরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।

আরেকটি কর্মসূচি ঘোষণা করে রিফাত রশিদ বলেন, আমাদের দ্বিতীয় কর্মসূচি হলো ইমডেমনেটির যে অর্ডিন্যান্স, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে তাঁদের প্রেশার দিয়ে তা জারি করতে বাধ্য করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই কাজ আজকে থেকে ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। কোনো প্রকার তালবাহানা নয়, আমরা অ্যাকশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়।

তাদের দাবিগুলো হলো- হবিগঞ্জের নেতা মাহদী হাসানকে শুধু জামিন নয়, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জ সদর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে; জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

তাঁদের তৃতীয় দাবি হলো জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীসহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করে তাঁদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মক্ষেত্রে তাঁদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করা; ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়ে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করা।

সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার মাহদী হাসানের জামিন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হলে রিফাত রশিদ বলেন, মাহদীকে কিন্তু নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হয়নি, একটি মামলায় কেবল জামিন দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তাঁদের প্রথম দফা সম্পূর্ণভাবে পূরণ হয়নি। তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল ইসলাম, মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশাসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত গ্রেপ্তারের ১৫ ঘন্টরে মধ্যে রোববার সকালে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন হবিগঞ্জের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসান।

সকাল ১০টায় হবিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক আব্দুল মান্নান ২০০ টাকা মুচলেকা দিয়ে তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে সকাল ৭টায় শায়েস্তাগঞ্জ থানায় পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলায় মাহদীকে আদালতে তুলে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে জুলাই যোদ্ধা শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক নয়নকে আটক করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার দুপুরে তাকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সাথে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় মাহদী হাসানের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা এই সরকার গঠন করেছি। আপনি আমাদের প্রশাসনের লোক। আমাদের ছেলেকে ধরে নিয়ে এসেছেন?’ তিনি জানতে চান, ‘কেন তার ভাইকে আটক করা হয়েছে? তারা ভেসে এসেছেন কিনা? উত্তেজিত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম।’

ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হয়।

এদিকে শনিবার দুপুরে মাহদীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটি। দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে মাহদী হাসানকে তার বক্তব্য প্রদানের কারণ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর দপ্তরের মাধ্যমে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত মাহদী হাসান সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

এরপর বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় মাহদী তার বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ উল্লেখ করে ভুলকে ভুল হিসেবে দেখার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.