Sylhet Today 24 PRINT

আট মাস যেভাবে দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে ছিলেন মোমেন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬

গত বছরের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশেই ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-এমপিদের মতো তিনিও আত্মগোপনে চলে যান।

এরপর দেশের ভেতরেই পালিয়ে ছিলেন ৮ মাস। ধরা পড়ার ভয়ে একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল ফোনের সিম বদলিয়েছেন ৬ বার। চেহারায়ও এসেছে আমূল পরিবর্তন। রেখেছেন দাড়িও। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। এক বছরের অধিক সময় তিনি অন্তরালে ছিলেন। খোঁজ-খবর কেউ জানতেন না।

সম্প্রতি তিনি নিজেই মিডিয়ার সামনে হাজির হয়েছেন। স্বভাব ভঙ্গিতেই জানিয়েছেন দেশে পালিয়ে থাকার ঘটনা। তবে কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র্রে পৌঁছালেন সেটি বলেননি।

নিজেই জানিয়েছেন; এখনো সে ঘটনা বলার সময় আসেনি। এ নিয়ে রহস্যও জিইয়ে রাখলেন। যুক্তরাষ্ট্র্রে থাকা এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় কথা বলেন।

ওই ইন্টারভিউতে ড. মোমেন বলেছেন; গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী সময়ে তিনি আমেরিকাতেই ছিলেন। সেখান থেকে কয়েক দিন আগে দেশে ফিরেন। আর তিনি আসার পরপরই গণ-অভ্যুত্থান হয়। ফলে তাকেও অন্যদের মতো আত্মগোপনে যেতে হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছিলো কীভাবে তিনি দেশ ছেড়েছেন। সে প্রশ্নের উত্তর তিনি দেননি। তার আগে দেশের ভেতরে পালিয়ে থাকার কিছুটা বর্ণনা দিয়েছেন।

বলেন- ‘এটা একটা সিনেমা হতে পারে। সুন্দর মুভি হবে। আই ওয়াজ দ্য লাস্টম্যান টু লিভ দ্য কান্ট্রি। আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাউকে কোনোদিন জেলে পাঠাইনি। কোনো চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। আমি কেন পালাবো? কিন্তু যখন কর্নেল সাব আমাকে ফোন করে বললেন; স্যার উই উইল প্রটেক্ট ইউ। তখন আমার সবাই বললো- স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান।’

ড. একে মোমেন জানান- ‘আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাইনি। আমার সব আত্মীয়-স্বজন পাবলিকলি নোন। আমি অন্যান্য লোকের যেমন রেন্ট হাউসের বাড়িতে ছিলাম। এইটা আমার খুব কাজ দিয়েছে। এক বাসার মালিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। সেই মালিককে আমি জিজ্ঞেস করলাম; আপনার এগুলো তো সুন্দর। উনাকে আমি আগে চিনতাম। উনি এসে বললেন; আমরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। হোটেলে আমাদের বায়ারকে রাখি না। বাসায় রাখি। এজন্য বাসা সুন্দর করে রাখি। এখন যেহেতু দেশে কোনো বায়ার আসতেছে না, কেউ আসলে সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংকক পর্যন্ত আসে। ঢাকায় ভয় পায় আসে না। সেজন্য সব খালি। তার জন্য আপনি ভাড়া পাচ্ছেন।’

পালিয়ে থাকার বিবরণ তুলে ধরে ড. মোমেন জানান- ‘আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম। যাতে বাইরে কেউ না চিনতে পারে মব’র জ্বালায় সেজন্য চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেছি। যখন নাপিতের কাছে গেলাম। এক বাসায় গেলাম সার্টেন টাইমে। ওই বাসায় এক নাপিত এলো। সেটি আমার বাসা না। আরেকজনের বাড়িতে। যাতে ওই নাপিত কাউকে বলতে পারে না কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে। এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি। এই যে বের হইছি কিছু জানি না। কারণ আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না। সি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট। দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়। আমি জীবিত আছি। আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্‌ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।’

প্রশ্ন করা হয়েছিলো সরাসরি শাহ্‌জালাল বিমানবন্দর থেকে এসেছেন না অন্য কোনো বিমানবন্দর থেকে? জবাবে ড. মোমেন জানান- ‘না না বিমানবন্দর তো আপনি যেতেই পারবেন না। ধারে কাছেও না। এটা পালাইয়া আসছি। কীভাবে বিভিন্ন ভাবে পালিয়ে আসছি। বলা যাবে কোনো এক সময়। এখনো বলতে চাচ্ছি না। কারণ- সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।’

কথা শেষে ডক্টর মোমেন জানান- ‘আমরা সাদাসিধে মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশটাকে জঙ্গি দেশ বানাতে চাই না। এ ব্যাপারে সবার উদ্যোগ নেয়া দরকার।’

ড. একে আব্দুল মোমেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের ছোট ভাই। তিনি ২০১৮ সালে সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলেও নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হননি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.