Sylhet Today 24 PRINT

নাছিরের পক্ষে ‘ঐক্যবদ্ধ’ বিএনপি, শিশির মনিরে চাঙ্গা জামায়াত

সুনামগঞ্জ-২:

মুজাহিদ সর্দার তালহা, দিরাই  |  ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

রাজনৈতিকভাবে সচেতন এলাকা হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) সংসদীয় আসনে দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত থাকা বিএনপি অবশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

দীর্ঘ বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দলের সব বলয়ের নেতারা এক মঞ্চে দাঁড়ানোয় এই আসনে বিএনপির নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। এতে বিএনপির পালে লেগেছে হাওয়া। তবে ছেড়ে কথা বলতে রাজী নয় জামায়াতে ইসলামীও। নিজেদের তরুণ ও আলোচিত প্রার্থী এডভোকেট শিশির মনিরকে সামনে রেখে প্রথমবারের মতো হাওরের এই আসনটিতে জয় চায় জামায়াতসহ দলীয় জোট। সিলেট বিভাগের যে কয়টি আসনে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে তার মধ্যে এই আসনও অন্যতম।

বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর পক্ষে সাম্প্রতিক এক নির্বাচনী সভায় দলের বিভিন্ন বলয়ের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভুলে নেতাদের এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থান স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আব্দুল মজিদ তাহের এবং সিলেট মহানগর বিএনপি নেতা মাহবুব চৌধুরী।

কেন্দ্রীয় বিএনপি প্রাথমিকভাবে নাছির উদ্দীন চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে দুই পক্ষ আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে। এমনকি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলেও তারা এক মঞ্চে আসতে পারেননি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলের হাইকমান্ড নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করলে শুরুতে অন্য পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দেয়। তবে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব বিভেদ ভুলে নির্বাচনী সভায় একই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন নাছির উদ্দীন চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল। একই সঙ্গে বক্তব্য দেন মনোনয়ন প্রত্যাশী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি ও আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদসহ দলের সব বলয়ের নেতারা। নেতাদের এই সম্মিলিত উপস্থিতিতে সভাটি রূপ নেয় ঐক্যের মিলন মেলায়।

সাবেক কাউন্সিল বিএনপি নেতা জয়নুল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর সব বলয়ের নেতাদের এক মঞ্চে দেখতে পেরে নেতাকর্মীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত। ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে এখন আর কেউ ঠেকাতে পারবে না।

দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বিএনপি বিভক্ত থাকলে সুবিধা নিতো অন্য দলগুলো, বিশেষ করে জামায়াত। এখন বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় তাদের রাজনৈতিক হিসাব পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মনে করেন, এই আসনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে থাকলে ভোটের সমীকরণ স্পষ্টভাবে তাদের অনুকূলে যাবে। এতে জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি কৌশলগত সংকটে পড়বে।

এদিকে, এ আসনে জামায়াতসহ ১০ দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বিন্দ্বিতা করছেন
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে নতুন মুখ হলেও অল্প সময়েই তিনি আলোচনায় উঠে আসেন। পেরো এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। ইতোমধ্যে এলাকায় নিজের অবস্থান গড়ে তুলতেও সক্ষম হয়েছেন।

অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের গ্রহণযোগ্যতা– দুই মাত্রার ভিন্ন ভিন্ন বিশেষত্ব নিয়ে দুই প্রজন্মের এই দুই রাজনীতিবিদের ভোটযুদ্ধ দেখার জন্য প্রবল আগ্রহে অপেক্ষা করছেন স্থানীয়রা; যার কারণে মূল লড়াইয়ের শুরুতেই নির্বাচনী এলাকাজুড়ে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নাসির-মনির দ্বৈরথ।

সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির এই ঐক্য শুধু দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই নয়, পুরো নির্বাচনী মাঠেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঐক্য ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

ছাত্র রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিনের ঝুলিতে রয়েছে এই আসন থেকে রেকর্ড সংখ্যকবার এমপি নির্বাচিত হওয়া সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করার অভিজ্ঞতা। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসির উদ্দিনের কাছে ৫০৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির ঢাকা মহানগর (উত্তর) জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.