Sylhet Today 24 PRINT

সিলেট-৪: সীমান্ত জনপদে জমে ওঠেছে আরিফ-জয়নালের লড়াই

দূর্গেশ সরকার বাপ্পী, গোয়াইনঘাট |  ৩০ জানুয়ারী, ২০২৬

সীমান্তবর্তী ৩টি উপজেলা জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। এই সীমান্ত জনপদজুড়ে এখন নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থীদের সরব প্রচারণা, শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছুটে বেড়ানো আর কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গণসংযোগে জমে ওঠেছে ভোটের মাঠ।

এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে ভোটের মাঠের দুই ‘নট আউট’ নেতার। তাদের একজন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও জামায়েতের মনোনীত প্রার্থী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে শেষ হাসি কে হাসবেন তা নির্ধারিত করবেন সীমান্ত জনপদের প্রায় পাঁচ লক্ষ ভোটার।

ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী একটি প্রভাবশালী নাম। সাবেক অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমান তাকে বলতেন ‘ডিপ্লোমেটিক লিডার’। ভোটের লড়াইয়ে নিজের ক্যারিশমা একাধিকবার দেখিয়েছেন আরিফ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে সরকার দলেরই প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করেিসিলেট সিটির দুই বার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সবশেষ সিটি নির্বাচনে দলীয় নির্দেশনা মেনে নির্বাচনে অংশ নেননি তিনি। এবার সীমান্ত জনপদেও তিনি ভোটের কারিশমা দেখবেন বলে আশা তার অনুসারীদের।

এই লড়াইয়ে ইতোমধ্যে প্রাথমিক সাফল্য দেখিয়েছেন আরিফ। আরিফকে নিয়ে শুরুর দিকে স্থানীয় বিএনপিতে অসন্তোষ ও বহুধাবিভক্তি থাকলেও তা মিটিয়ে এনেছেন তিনি। এখন প্রকাশ্যে অন্তত ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি।

অপর দিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোটের মাঠের জনপ্রিয় নাম। তিনি ওই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা। ওই এলাকায় এবারের নির্বাচনে ‘স্থানীয়’ ও ‘বহিরাগত’ ইস্যু বেশ আলোচিত হচ্ছে। এই ইস্যুর সুবিধা পাবেন জয়নাল।

ইতোমধ্যে প্রার্থী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও নির্বাচনকেন্দ্রিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে। আড্ডায়, আসরে ঘুরেফিরে নির্বাচনের কথা উঠছে। যার যার মতো করে চুলছেড়া বিশ্লেষণ চলছে, নিজেদের মধ্যে হচ্ছে যুক্তি তর্কবিতর্কও চলছে হরদমে এলাকার হাট- বাজর ও চা দেকানে।

স্থানীয় মানুষ ও দলীয় নেতা–কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় সব দলেরই প্রার্থীরা বিভিন্ন হাটবাজার, গ্রামে উঠান বৈঠক, ছোট-বড় সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রচার চালছে। কেউ কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি কথা বলছেন, ভোট চাইছেন।

সিলেট ৪ আসনে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী ছুটে বেড়াচ্ছেন উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে।

সিলেট-৪ আসনের জামায়াত সমর্থিত একাধিক ভোটার জানান, ‘জয়নাল ভাই দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। 'স্থানীয় প্রার্থী' এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ ৫৪ বছরের আক্ষেপ ঘুচাতে জয়নাল ভাই আমাদের প্রথম পছন্দ।"

আবার বিএনপি সমর্থক ভোটাররা বলেন, "আরিফ ভাই ভোটের রাজনীতির অদ্বিতীয় ম্যাজিক ম্যান । তাছাড়া জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয়, বহিরাগত কোন বিষয় নয়। এখানে উন্নয়নই মূল লক্ষ্য, সীমান্ত জনপদ উন্নয়নে আরিফ ভাইয়ের বিকল্প নেই।’

সব মিলিয়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা গণসংযোগ, পথসভার মধ্য দিয়ে প্রচারণা শুরু করে এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে এলাকার সমস্যা, প্রত্যাশা ও অভিযোগ শোনছেন এবং এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তাদের উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন।

বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকার যোগাযোগ ব্যাবস্থা উন্নয়ন, শিক্ষা,পর্যটন, কর্মসংস্থান, পাথর কোয়ারি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন- এই বিষয়গুলোই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার নীর্বাহী কর্মকর্ত রতন কুমার অধিকারী জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

গোয়াইনঘাট থানার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.