Sylhet Today 24 PRINT

শ্রীমঙ্গল বিসিক: নির্মাণের ৬ বছর পরও পরিত্যক্ত, আগ্রহ নেই উদ্যোক্তাদের

সাজু মারচিয়াং, শ্রীমঙ্গল |  ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

চা-সমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছিল বিসিক শিল্পনগরী। তবে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও আজও এর কার্যক্রম শুরু হয়নি। সব ধরনের অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও পুরো শিল্পনগরী এখন অচল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

২০১২ সালে প্রকল্প গ্রহণের পর ২০১৬ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালে প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক কোয়ার্টার, পাম্প হাউস, গ্যাস সাবস্টেশন, পুকুর ও পিচঢালা সড়কসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও শিল্প স্থাপনের কোনো অগ্রগতি হয়নি।

বিসিক শিল্পনগরীতে মোট ১২২টি প্লটের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দপ্রাপ্ত কোনো উদ্যোক্তাই এখনো কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেননি। নিরাপত্তার অভাব ও পর্যাপ্ত তদারকির ঘাটতির কারণে গ্যাস সাবস্টেশন ও বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ফলে বর্তমানে শিল্পনগরীতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বিসিক শিল্পনগরীর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনে উৎসাহিত করা। কিন্তু প্লটের তুলনামূলক বেশি মূল্য ও বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ মৌলিক সুবিধার অভাবে তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, শিল্পনগরীতে তিন ধরনের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়- এ ক্যাটাগরি: ৬০-১০০ ফুট, বি ক্যাটাগরি: ৪৫-৯০ ফুট এবং এস ক্যাটাগরি: ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৮ হাজার ১০০ বর্গফুট। ৯৯ বছরের জন্য প্রতি বর্গফুট প্লটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯৯ টাকা ৫১ পয়সা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবন ছাড়া শিল্পনগরীর প্রায় পুরো এলাকাজুড়ে ঘন জঙ্গল গড়ে উঠেছে। পিচঢালা রাস্তা ফেটে সেখানে গজিয়েছে ঘাস ও গাছপালা। দ্বিতীয় প্রবেশপথটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় গাছপালায় ঢেকে গেছে। খুঁটিতে নেই কোনো ট্রান্সফরমার, ভবনের ভেতরে পড়ে আছে খোলা যন্ত্রাংশ। লতাপাতায় ঢেকে গেছে বিদ্যুৎ মিটারগুলো। এলাকাটি এখন সাপ, বোলতা ও মৌমাছিসহ নানা প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। দিনের বেলাতেও একা চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ।

শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল মিয়া বলেন, “এখানকার প্লটের দাম আশপাশের জমির তুলনায় অনেক বেশি। তার ওপর বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ না থাকায় উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। বিসিক শিল্পনগরী কার্যকর করতে হলে প্লটের দাম কমাতে হবে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ চালু করতে হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “মৌলভীবাজার বিসিক শিল্পনগরীতে আমার একটি কারখানা রয়েছে। শ্রীমঙ্গলে নেওয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু এখানকার প্লটের দাম অত্যধিক। নিরাপত্তার ব্যবস্থাও দুর্বল, তাই ঝুঁকি নিইনি।

শিল্পনগরীর নৈশপ্রহরী বিশ্বজিৎ সরকার জানান, “চারদিকে জঙ্গল হয়ে গেছে। এত বড় এলাকা একা পাহারা দেওয়া অসম্ভব। ট্রান্সফরমার চুরির পর থেকে বিদ্যুৎ নেই। একাধিকবার চোর-ডাকাতের ঝুঁকির মুখে পড়েছি।

শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মো. মুনায়েম ওয়ায়েছ বলেন, “বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্পের নির্মাণকাজ ২০১৯ সালে সম্পন্ন হয়। ২০২২ সাল থেকে প্লট বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ৫৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের কেউই এখনো কার্যক্রম শুরু করেননি।

তিনি আরও জানান, “২০২৫ সালে নতুন করে আরও দুটি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং চারটি প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আগে যারা প্লট নিয়েছেন, তারা বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাজ শুরু করতে পারেননি। নতুন বরাদ্দের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও আগ্রহ যাচাই করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। পুনঃসংযোগের জন্য পল্লী বিদ্যুৎকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা কাজ শুরু করলেই গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।

প্লটের মূল্য নির্ধারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “শিল্পনগরী নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে যে ব্যয় হয়েছে, তার হিসাব করেই প্লটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সে কারণে আশপাশের জমির তুলনায় দাম কিছুটা বেশি হতে পারে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.