সিলেটুডে ডেস্ক | ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনের ব্যালট পেপারে এবার থাকছে না জনপ্রিয় তিনটি প্রধান প্রতীক– নৌকা, লাঙ্গল ও দাঁড়িপাল্লা। ফলে এই তিন দলের বিশাল ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে নির্বাচনী ময়দানে থাকা চার প্রভাবশালী প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে বিভিন্ন কৌশলে ভোটারদের ধারার চেষ্টা করছেন। তবে কার কৌশলে ভোটারেরা ধরা দেবে এ নিয়ে ধুয়াশা কাটছে না প্রার্থীদের । এরই মধ্যে সব প্রার্থীরাই নিজ নিজ ভোটের পাল্লা ভারী করতে নিজ নিজ কৌশলে কাজ করছেন ভোটের মাঠে ।
জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রিয় প্রতীকগুলো না থাকায় বড় অংশের ভোটারদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ‘নৌকা’ প্রতীক এবার নির্বাচনে নেই। অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী না থাকায় গ্রামগঞ্জে পরিচিত ‘লাঙ্গল’ প্রতীকও অনুপস্থিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান ১১-দলীয় জোটের সমীকরণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ৩০ বছর পর পাওয়া ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন এ আসনের ভোটাররা।
বড় তিন প্রতীক না থাকা এখন মূলত ধানের শীষ, তালা, রিকশা ও চার ঈগল পাখি প্রতীক পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্ধিতা সীমাবদ্ধ। প্রতিদ্বন্ধি এ প্রার্থীরা হলেন– বিএনপির কয়ছর এম আহমেদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন (তালা), খেলাফত মজলিসের শাহীনুর পাশা চৌধুরী (রিকশা), এবি পার্টির সৈয়দ তালহা আলম (ঈগল পাখি)।
ভোট টানতে অভিনব কৌশল
আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক ও জামায়াত-জাপার সমর্থকদের নিজের পক্ষে আনতে প্রার্থীরা নানা কৌশল নিচ্ছেন। প্রার্থীদেরকে তারা নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার তৈরির দাবি করছেন। এমনকি জগন্নাথপুরের কিছু এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ‘আঞ্চলিক ঐক্যের’ ব্যানারে দেখা গেছে।
বিপরীতে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন তাঁর নিজ উপজেলা শান্তিগঞ্জে আঞ্চলিকতার টান ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ও সাধারণ ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রিকশা প্রতীকের পক্ষে মাওলানা মামুনুল হকের সমর্থনকে কাজে লাগাচ্ছেন। অন্যদিকে, এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম কোনো শক্ত সাংগঠনিক কাঠামো না থাকলেও বন্যা ও দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকার ব্যক্তিগত ইমেজকে পুঁজি করে ভোট চাচ্ছেন।
ভোটারদের দোলাচল ও জোটের রাজনীতি
জামায়াত ও খেলাফত মজলিস একই জোটের শরিক হলেও এ আসনে আসনটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জামায়াত নেতারা বর্তমানে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেননি, যা কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। জাতীয় পার্টির ভোটাররাও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরের ভোটারদের মধ্যে আঞ্চলিকতার প্রভাব বেশ প্রবল।
নৌকা ও লাঙ্গলের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে যাবেন কিনা, আর গেলেও কার বাক্সে ভোট দেবেন– তা নিয়েই এখন হিসাব কষছেন প্রার্থীরা।
বিএনপি প্রার্থী কয়ছর এম আহমেদ জানান, মানুষ ধানের শীষকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নেবে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জোটের প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান এবং বড় দলগুলোর প্রতীকের অনুপস্থিতি নির্বাচনী ফলাফলকে যে কোনো দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে। ভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার কৌশলে ধরা দেয় বিজয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।